মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৭ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৮ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

ফ্রান্সের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এদুয়ার বালাদুরের জীবনাবসান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফ্রান্সের রাজনীতিতে দীর্ঘ পাঁচ দশকের পথচলার অবসান ঘটিয়ে মারা গেলেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী এদুয়ার বালাদুর। সোমবার ৯৭ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু। তবে তার মৃত্যুর কারণ জানানো হয়নি।

লেকর্নু বলেন, ফ্রান্সের পঞ্চম প্রজাতন্ত্রের পাঁচ দশকের ইতিহাসের সঙ্গে বালাদুরের নাম গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। জর্জ পম্পিদুর সঙ্গে কাজের শুরু থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়া পর্যন্ত তিনি ফ্রান্সের জনজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

১৯২৯ সালে তৎকালীন উসমানীয় সাম্রাজ্যের উপকূলীয় শহর ইজমিরে একটি খ্রিস্টান পরিবারে জন্ম বালাদুরের। ১৯৩৪ সালে তার বাবা-মা ছয় সন্তানকে নিয়ে ইজমির ছেড়ে ফ্রান্সে চলে যান।
পরে তারা দক্ষিণ ফ্রান্সের মার্সেই শহরে বসতি গড়েন।

বালাদুর ন্যাশনাল স্কুল অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন থেকে পড়াশোনা শেষ করেন। ১৯৬৪ সালে প্রধানমন্ত্রী জর্জ পম্পিদুর উপদেষ্টা হিসেবে সরকারি কাজে যোগ দেন। পরে পম্পিদুর প্রধান কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ সালে আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে জ্যাক শিরাকের মধ্য-ডানপন্থী সরকারে অর্থনীতি, অর্থ ও বেসরকারিকরণবিষয়ক মন্ত্রী হন।

মন্ত্রী হিসেবে তিনি কর ও সরকারি ব্যয় কমানো, শ্রমবাজারের কিছু নিয়ম শিথিল করা এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে ফিরিয়ে দেওয়ার মতো অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়ন করেন।

১৯৯৩ সালে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী হন বালাদুর। সে সময় প্রেসিডেন্ট ছিলেন সমাজতান্ত্রিক নেতা ফ্রাঁসোয়া মিতেরাঁ। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি পেনশন ব্যবস্থায় সংস্কার আনেন এবং বেসরকারিকরণ কর্মসূচি আরও বাড়ান।

১৯৯৫ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হন বালাদুর। তবে প্রথম দফার ভোটেই বাদ পড়ে যান। তিনি পান ১৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ ভোট, আর জ্যাক শিরাক পান ২০ দশমিক ৮৪ শতাংশ। পরে শিরাকই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

ওই নির্বাচনী প্রচারের অর্থের উৎস নিয়ে পরে তদন্ত শুরু হয়। পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সঙ্গে অস্ত্র চুক্তি থেকে পাওয়া অবৈধ কমিশনের অর্থ প্রচারে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে বলে অভিযোগ ওঠে। মামলাটি ফ্রান্সে ‘করাচি কেলেঙ্কারি’ নামে পরিচিতি পায়। তবে বালাদুর সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। ২০২১ সালে ফ্রান্সের প্রজাতন্ত্রের বিচার আদালত তাকে খালাস দেন।

১৯৯৫ সালের পরাজয়ের পরও রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন বালাদুর। ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন। এর মধ্যে পাঁচ বছর জাতীয় পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

ফ্রান্সের মধ্য-ডানপন্থী রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত বালাদুরের অর্থনীতি, বেসরকারিকরণ ও প্রশাসনিক সংস্কারে ভূমিকা দেশটির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে।

ব্যক্তিগত জীবনে বালাদুরের স্ত্রী ছিলেন মারি-জোসেফ। তাদের চার ছেলে-পিয়ের, জেরোম, অঁরি ও রোমাঁ।