মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৭ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৮ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

সাংবাদিকতায় নজরুল পদক প্রবর্তন : এনইসির সভাপতি শফিক রেহমান, সম্পাদক মাহমুদুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক : ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলে (এনইসি) অন্তর্বতীকালীন সময়ের জন্য সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। এছাড়া ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন।

সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত সংগঠনের প্রথম সাধারণ সভায় তাদের নির্বাচন করা হয়। সভায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রকাশিত ২৯টি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন।

সভায় উপস্থিত সম্পাদকরা ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের উপস্থাপিত গঠনতন্ত্রও কিছু সংশোধনীসহ অনুমোদন করেন। এনইসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানা গেছে।

শফিক রেহমানের সভাপতিত্বে সাধারণ সভায় সম্পাদকরা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও পেশাগত মানোন্নয়নে তাদের পরামর্শ তুলে ধরেন। সভায় আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলকে আমরা আরও বিস্তৃত করতে চাই। সাংবাদিকদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো উচিত। স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য সম্পাদকরা যাতে ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারেন, সেজন্য এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংগঠনটি প্রথম সভাতেই গণতান্ত্রিকভাবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যাত্রা শুরু করেছে।’

যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, ‘গত ১৭ বছরে সাংবাদিকতার নামে গণমাধ্যমে যা হয়েছে, তা ছিল ঘৃণার অযোগ্য। সংবাদমাধ্যম পচে-গলে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এখন সেখান থেকে আমাদের উত্তরণের চেষ্টা করতে হচ্ছে। প্রশ্ন নয়, প্রশংসার বদলে সত্যিকার অর্থে আমাদের এখন প্রশ্ন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এই উপমহাদেশে গণমুখী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ ছিলেন আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। ধূমকেতুর মাধ্যমে তিনি প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন সফল সম্পাদক।’

তিনি এডিটরস কাউন্সিলকে সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য কাজী নজরুল ইসলাম পদক প্রদানের আহ্বান জানান। পরে সভায় সে প্রস্তাব গৃহীত হয়। এডিটরস কাউন্সিল প্রতিবছর সাংবাদিকতায় নজরুল পদক প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী বাংলাদেশে সম্পাদকদের এমন একটি প্ল্যাটফর্ম জরুরি ছিল। এনইসি যাতে সারা বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে পারে, সেজন্য কাজ করে যেতে হবে। এর মধ্য দিয়ে সংবাদপত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা যাবে।’

সভাপতির বক্তব্যে শফিক রেহমান বলেন, ‘দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতায় সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। গণতান্ত্রিকভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থেকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’ সারা দেশের সম্পাদকদের একটি প্ল্যাটফর্মে আনতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

সাধারণ সভায় আরও মতামত দেন নয়া দিগন্ত সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, প্রতিদিনের বাংলাদেশের মারুফ কামাল খান, নিউ নেশনের মোকাররম হোসেন, বাংলাদেশ প্রতিদিনের লোটন একরাম, মানবকণ্ঠের শহিদুল ইসলাম, খবর সংযোগের শেখ নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের খবরের সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন, ভোরের ডাকের কে এম বেলায়েত হোসেন, জনতার ওবায়দুর রহমান শাহীন, দ্য বাংলাদেশ পোস্টের সদরুল হাসান, বাণিজ্য প্রতিদিনের গিয়াস উদ্দিন, খোলা কাগজের মনির হোসেন, রূপালী বাংলাদেশের সায়েম ফারুকী প্রমুখ।