নিজস্ব প্রতিবেদক : শুধু যৌতুক নিরোধ আইন নয়, যৌতুকের কারণে মারধর, গুরুতর জখম বা মৃত্যু হলে তখন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ১১ ধারায় মামলা হয়। এই আইন অনুযায়ী যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে মৃত্যু ঘটালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টার জন্য যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে বা অনধিক ১২ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডের দেওয়ার বিধান রয়েছে। মারাত্মক জখম করার জন্য যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অনধিক ১২ বৎসর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এ ছাড়া সাধারণ জখম করার জন্য অনধিক পাঁচ বৎসর কিন্তু অন্যূন দুই বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি এরশাদ আলম জর্জ বলেন, ছেলে বা মেয়ে যেকোনো ব্যক্তি যৌতুক চাইলে যৌতুক নিরোধ আইনের শাস্তির বিধান রয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে এক থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খালিদ হোসাইন বলেন, যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮ এর ৪ ধারা অনুযায়ী যৌতুক গ্রহণ একটি সুস্পষ্ট ফৌজদারি অপরাধ। অনেকে মনে করেন, শুধু দাবি করলেই অপরাধ হয়। প্রকৃতপক্ষে, দাবি ছাড়াও যদি কেউ যৌতুক গ্রহণ করেন, সহায়তা করেন বা চুক্তি করেন, তাহলে তিনিও এক থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এই আইনে আপস-মীমাংসার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি আরো বলেন, যৌতুকের কারণে মারধর, গুরুতর জখম বা মৃত্যু হলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ -এর ১১ ধারায় মামলা করা যায়। সেখানে শাস্তি অনেক বেশি। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়ার বিধান রয়েছে।