বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৫ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে আগুন, ক্ষতিগ্রস্ত সার্ভার রুম

পাবনা প্রতিনিধি : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বায়েক) কার্যালয়ে গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে বায়েকের সার্ভার রুমসহ আশপাশের কয়েকটি কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুড়ে গেছে কম্পিউটার, এসি, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ইন্টারনেট সার্ভারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ।

রোববার রাত ৩টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হলেও ঘটনাটি জানাজানি হয় মঙ্গলবার । প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আগুনের পর বায়েকের দুটি ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনায় ইন্টারনেট সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

অগ্নিকাণ্ডের প্রায় ৪০ ঘণ্টা পরও প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থাপনায় বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি বলে জানা গেছে। এতে প্রকল্পের নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, বায়েকের সার্ভার রুম থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে দ্রুত আগুন ও ধোঁয়া আশপাশের কয়েকটি কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার (অনসাইট) আবু হাসেম বলেন, খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রাথমিকভাবে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রূপপুর গ্রিনসিটি মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের ভেতরের অনসাইট ফায়ার স্টেশন থেকে খবর পাওয়ার পর তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আগুনে বায়েক কার্যালয়ের কম্পিউটার, এসি, কাগজপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং ইন্টারনেট সার্ভারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

সার্ভার রুমে আগুন লাগার ঘটনায় প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ, আগুনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, নথিপত্র ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রকল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. কবির হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।