নিকলী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জের নিকলীতে দীর্ঘ ১০ বছর পর ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকেল ৫টায় নিকলী উপজেলা সদরের চইল্যাতি হাওরে নিকলী নাগরিক কমিটির উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
দীর্ঘদিন পর নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দেয়। প্রতিযোগিতা দেখতে নিকলীসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ দর্শনার্থী হাওরপাড়ে ভিড় করেন।
নৌকা বাইচের উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল। বক্তব্যে তিনি বলেন, গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। এখানে এসে সত্যি আমার খুব ভালো লেগেছে। চইল্যাতি হাওরের মধ্যে এত দর্শনার্থী নৌকা বাইচ দেখতে এসেছেন। জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্য রক্ষায় জেলা পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি বদরুল মোমেন মিঠু, সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম তালুকদার হেলিম, যুবদলের সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শরীফ মিয়া সহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা উপলক্ষে নিকলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকাজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। প্রতিযোগিতায় সুসজ্জিত ১২টি নৌকা অংশগ্রহণ করে। বাদ্যযন্ত্রের তালে জারি-সারি ও লোকগীতির সুরে মাঝি-মাল্লারা সজোরে বৈঠা চালিয়ে বিশেষ স্থান পাওয়ার প্রত্যাশায় নৌকা নিয়ে ছুটে চলেন।
নৌকা বাইচ দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা কামাল মিয়া বলেন, ‘নৌকা বাইচ আমাদের গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের অংশ। এমন আয়োজন দেখতে পেরে আমরা আনন্দিত। পরিবার নিয়ে নৌকা বাইচ খেলা দেখতে এসেছি।
সিংপুর ইউনিয়ন থেকে আসা রুখন মিয়া বলেন, ‘নৌকা বাইচ দেখতে চইল্যাতি হাওরে অনেক মানুষের সমাগম হয়েছে। প্রতি বছর এমন আয়োজন হলে নতুন প্রজন্মও আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে।
বড় নৌকার প্রতিযোগিতায় নিকলী সদর ইউনিয়নের ইসরাফিল মাঝির নৌকা প্রথম পুরষ্কার ফ্রিজ জিতে নিয়েছে, এবং ইটখলা সর্দার গ্রুপের মজিবুল্লা মিয়ার নৌকা দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে ৩২ ইঞ্চি এলইডি টিভি জিতেন।
ছোট নৌকার প্রতিযোগিতায় করগাঁও ইউনিয়নের পাচলীপাড়ার নৌকা প্রথম হয়ে ২৪ ইঞ্চি এলইডি টিভি এবং নিকলী সদরের গোবিন্দপুরের মোবারক মিয়ার নৌকা দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে একটি স্মার্ট ফোন জিতে নেয়।
এ ছাড়া নৌকা বাইচে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য নৌকাগুলোকে সান্ত্বনা পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।