সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২ রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

৬ ম্যাচে ৬ জয়, ১০০ বছরের ইতিহাস ভাঙার সামনে বার্সেলোনা

স্পোর্টস ডেস্ক : ২০২৬-২৭ মৌসুমে বার্সেলোনার শুরুটা এর চেয়ে জাদুকরী আর হতে পারতো না। কোচ হানসি ফ্লিকের অধীনে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে নিজেদের প্রথম ছয়টি ম্যাচের সবকটিতেই জিতেছে কাতালানরা।
দারুণ এই জয়রথে ক্লাবের ভেতর সৃষ্টি হয়েছে আত্মবিশ্বাসের।

এই ছয়টি জয়ের মধ্যে পাঁচটিই এসেছে লা লিগায়; এলচে, আথলেটিক ক্লাব, রায়ো ভায়েকানো, ভালেন্সিয়া ও লেভান্তের বিপক্ষে।
এছাড়া চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম ম্যাচেও ফেইনুর্দকে হারিয়েছে তারা। টানা ছয় জয়ের এই শতভাগ সাফল্য মৌসুমে বার্সাকে এখনই শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

এই উড়ন্ত সূচনা ফ্লিকের দলকে বার্সেলোনার ইতিহাসের সফলতম দলগুলোর পাশে বসিয়ে দিয়েছে। এর আগে ক্লাবের প্রায় ১২৫ বছরের ইতিহাসে মাত্র তিনটি দল মৌসুমের প্রথম ছয়টি ম্যাচে জয়ের রেকর্ড গড়তে পেরেছিল।
প্রথমবার এমনটি ঘটেছিল প্রায় এক শতাব্দী আগে ১৯২৯-৩০ মৌসুমে জেমস বেলামির অধীনে। এরপর ১৯৬০-৬১ মৌসুমে লিউবিসা ব্রোসিক এবং সর্বশেষ ২০১৮-১৯ মৌসুমে আর্নেস্তো ভালভার্দের বার্সা এই কৃতিত্ব দেখিয়েছিল।

তবে ইতিহাসের সেই তিনটি দলই তাদের সপ্তম ম্যাচে গিয়ে হোঁচট খেয়েছিল। ১৯২৯-৩০ মৌসুমের দলটি আথলেটিক ক্লাবের কাছে আটকে যায়, ১৯৬০-৬১ মৌসুমে আথলেতিকো মাদ্রিদের কাছে হারতে হয় এবং ২০১৮-১৯ মৌসুমে জিরোনার সাথে ২-২ গোলে ড্র করে রেকর্ড গড়ার সুযোগ হারায় ভালভার্দের দল। এবার ফ্লিকের সামনে সুযোগ অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে নতুন ইতিহাস লেখার।

সবশেষ ম্যাচে লেভান্তের বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয়টি বর্তমান বার্সার শক্তির পাশাপাশি কিছু দুর্বলতাও স্পষ্ট করেছে। বরাবরের মতো ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন বিস্ময় বালক লামিনে ইয়ামাল, যিনি করেছেন জোড়া গোল। এছাড়া জালের দেখা পেয়েছেন জাভি এসপার্ত ও করিম আদিয়েমি। এই জয়ের ফলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ৩ পয়েন্ট এগিয়ে থেকে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে বার্সা।

অবশ্য ম্যাচটিতে বার্সার রক্ষণভাগের কিছু আলগা ভাবও ধরা পড়েছে। দীর্ঘক্ষণ দাপট বজায় রাখলেও শেষ দিকে ইভান রোমেরো ও রজার ব্রুগের গোল ম্যাচটিকে খানিকটা স্নায়ুচাপের মুখে ঠেলে দিয়েছিল। কোচ ফ্লিক স্বীকার করেছেন যে, এটি তাদের সেরা পারফরম্যান্স ছিল না এবং বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে দলের খেলার আরও উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে।

মাঝমাঠে রদ্রির দারুণ উপস্থিতি এবং অধিনায়ক রাফিনহার ক্লান্তিহীন দৌড় বার্সার এই জয়ের ধারা সচল রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে। ইয়ামালের আক্রমণাত্মক প্রতিভার সাথে সতীর্থদের এই লড়াকু মানসিকতা বার্সাকে কঠিন মুহূর্তগুলো পার হতে সাহায্য করছে।

এখন বার্সেলোনার সামনে লক্ষ্য কেবলই ইতিহাস গড়া। রেকর্ড আর বার্সার মাঝে এখন দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে রেসিং সান্তান্দার। এই ম্যাচে জয় পেলেই প্রথমবারের মতো মৌসুমের শুরুতে টানা ৭টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে জয়ের অনন্য ক্লাব রেকর্ড গড়বে ফ্লিকের শিষ্যরা।