বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৪ রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

পদ্মার তীব্র স্রোতে নাজিরগঞ্জ-ধাওয়াপাড়া রুটে ফেরি বন্ধ

পাবনা প্রতিনিধি : পাবনার নাজিরগঞ্জ ও রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া নৌরুটে টানা এগারো দিন ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী এবং পরিবহন চালকেরা। বিআইডাব্লিউটিসির নাজিরগঞ্জ-ধাওয়াপাড়া ফেরি সার্ভিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমএন আল শিবলী জানিয়েছেন, গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে নৌপথটিতে যানবাহন পারাপার পুরোপুরি বন্ধ আছে।

পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে মানসম্মত ও শক্তিশালী ফেরি না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রী ও গাড়ি চালকেরা। ফলে সামান্য দুর্যোগেই বারবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে যান পারাপার। উপায় না পেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ট্রলার ও স্পিডবোটে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
ফলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা হতে পারে।

স্থানীয়রা জানান, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী জেলার চালকেরা সময় ও খরচ বাঁচাতে এই পথ ব্যবহার করেন। এটি ব্যবহার করলে স্বাভাবিক দূরত্বের চেয়ে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পথ বেঁচে যায়। মঙ্গলবার সকালে সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জ ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঘাটে অলস বসে আছে ফেরি ‘ক্যামেলিয়া’।
অন্যদিকে, কূল ঘেঁষে চলা ট্রলার ও ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী নিয়ে উত্তাল পদ্মা পার হচ্ছে নদীপাড়ের মানুষ।

২০২৩ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) কাছ থেকে নৌরুটটি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) অধিগ্রহণ করে। এরপর ‘কপোতি’ ও ‘ক্যামেলিয়া’ নামে দুটি ফেরি দিয়ে দিনে চারবার চলাচল (পারাপার) শুরু হয়। এর মধ্যে কপোতি প্রায় তিন মাস ধরে বিকল, আর ক্যামেলিয়া পদ্মার তীব্র স্রোতের কাছে অসহায়। নাজিরগঞ্জ ঘাটের টারমিনাল সুপারিনটেনডেন্ট খাইরুল ইসলাম খোকন বলেন, স্বাভাবিক সময়ে নদী পার হতে ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট লাগলেও স্রোতের কারণে সম্প্রতি সময় লাগত আড়াই ঘণ্টার বেশি।
পরবর্তী সময়ে ইঞ্জিনের সক্ষমতা কমে আসা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায় ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ।

বিকল্প পথ হিসেবে পরিবহনগুলোকে লালন শাহ সেতু ঘুরতে হচ্ছে অথবা দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাট পাড়ি দিয়ে আরিচা হয়ে পাবনার কাজিরহাট যেতে হচ্ছে, ফলে বাড়তি সময় ও অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ গুনতে হচ্ছে। এ নৌপথের যাত্রী ও চালকদের অভিযোগ, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোরসহ উত্তরবঙ্গের সঙ্গে যোগাযোগের এই সহজ পথটি নিয়ে বছরের পর বছর ধরে অবহেলা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনেও এই রুটে ভালো ও শক্তিশালী ফেরি দেওয়া হয়নি। তাই সামান্য দুর্যোগ হলেই নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

নিয়মিত এই নৌপথে যাতায়াতকারী কবীর হোসেন বলেন, ‘শুরু থেকেই এই নৌপথের প্রতি সরকারের অবহেলা দেখছি। অথচ এই রুট থেকে সরকার বিভিন্নভাবে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করছে। কিন্তু আমরা তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি না।’

তিনি বলেন, ‘সাধারণ সময়ে নাজিরগঞ্জ ঘাট থেকে ধাওয়াপাড়া ঘাটে একটি মোটরসাইকেল ও দুজন যাত্রীর ভাড়া ২৫০ টাকা। এখন ফেরি বন্ধ থাকায় মোটরসাইকেল নেওয়া যাচ্ছে না। ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে গেলেও একজনকে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে। এর সঙ্গে মোটরসাইকেলের জন্য আরো ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দিতে হচ্ছে।’

এদিকে বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকায় ঘাট এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নাজিরগঞ্জ ঘাটের মায়ের দোয়া হোটেলের মালিক আব্দুল আলীম বলেন, ‘ঘাট চালু থাকলে আমাদের বেচাকেনা ভালো হয়। ঘাট বন্ধ মানে আমাদের ব্যবসাও বন্ধ।’ ঘাটের এসব সমস্যা দেখার কেউ নেই বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।