বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৫ রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

খাগড়াছতিতে সেনাবহিনীর সহযোগিতায় আরো ৬১ জন হত-দরিদ্র মানুষ চোখে আলো ফিরে পেল

এইচ এম প্রফুল্ল, খাগড়াছড়ি : পার্বত্য খাগড়াছড়ির দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী খাগড়াছড়ি জোনের তত্ত্বাবধানে ৬১ জন ছানি রোগীর চোখের অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। চিকিৎসা শেষে বুধবার সন্ধ্যায় সবাইকে নিজ নিজ বাড়ীতে পৌছে দিয়েছে খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের সদস্যরা। এ নিয়ে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তত্বাবধানে চলতি বছর খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের আওতায় আরো ১৫১ জন হত-দরিদ্র পাহাড়ি-বাঙালিকে চোখের আলো ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দুর্গম এলাকার সুবিধাবঞ্চিত এক হাজার পাহাড়ি-বাঙালি নর-নারীকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়।
খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়ন সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী খাগড়াছড়ি জোনের ব্যবস্থাপনায় চোখে ছানি পড়া ৮৪ জন রোগীকে উন্নত চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের জন্য চট্টগ্রাম লায়ন্স হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলের এসব রোগীকে নিরাপদে চট্টগ্রামে পৌঁছানো, চিকিৎসা গ্রহণ এবং পরবর্তীতে খাগড়াছড়িতে ফিরিয়ে আনার পুরো প্রক্রিয়ায় খাগড়াছড়ি জোনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও ব্যবস্থাপনা করা হয়।
চট্টগ্রাম লায়ন্স হাসপাতালে পৌঁছানোর পর রোগীদের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন ধাপে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। রোগীদের শারীরিক অবস্থা, চোখের বর্তমান পরিস্থিতি এবং অস্ত্রোপচারের উপযোগিতা যাচাই করার পর চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাদের চোখের অপারেশনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। পরবর্তীতে নির্ধারিত চিকিৎসা প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ৬১ জন রোগীর চোখের ছানি অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়। বাকি ২৩ জন রোগীর নানা শারীরিক জটিলতা থাকায় এখন অপারেশন করা সম্ভব হয়নি কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে এবং উপযুক্ততা অর্জন সাপেক্ষে চট্টগ্রাম লায়ন্স হাসপাতালে পরবর্তীতে তাদের বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশনের সুযোগ রয়েছে।
অপারেশন-পরবর্তী সময়ে রোগীদের শারীরিক ও চক্ষুজনিত অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। চিকিৎসকরা তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেন এবং অপারেশন-পরবর্তী যত্ন, চোখের পরিচর্যা, ওষুধ ব্যবহারের নিয়ম ও সতর্কতামূলক বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে অবহিত করেন। একই সঙ্গে রোগীদের সুস্থতার বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।
১৬ সেপ্টেম্বর রোগিদের অপারেশন-পরবর্তী চেকআপ শেষে চিকিৎসকরা রোগীদের চোখের অবস্থা পরীক্ষা করেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ ও ওষুধ প্রদান করার পর রোগীদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী খাগড়াছড়ি জোনের ব্যবস্থাপনায় ৮৪জন রোগীকে নিরাপদে খাগড়াছড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।
চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারী রোগী ও তাদের স্বজনরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী খাগড়াছড়ি জোনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা জানান, প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাস করার কারণে অনেকের পক্ষেই চট্টগ্রামের মতো দূরবর্তী স্থানে গিয়ে চোখের চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার করানো সম্ভব হয় না। সেনাবাহিনীর উদ্যোগে চিকিৎসা, যাতায়াত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়ায় তারা বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের পাশে থেকে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। চিকিৎসাসেবা, বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ, চক্ষু চিকিৎসা, অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে দুর্গম এলাকার মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ছানি রোগীদের চিকিৎসা ও সফল অস্ত্রোপচারের এই উদ্যোগ পার্বত্য এলাকার সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক কার্যক্রম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী খাগড়াছড়ি জোনের এমন উদ্যোগের ফলে প্রত্যন্ত এলাকার অসহায় ও দরিদ্র রোগীরা উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন। ভবিষ্যতেও পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে এ ধরনের জনসেবামূলক ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।