শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৭ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১১ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

তারেক রহমানকে সমর্থন জানিয়ে এনসিপি ছাড়লেন আরশাদুল

মীর আরশাদুল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব মীর আরশাদুল হক। একই সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে এক ফেসবুক পোস্টে এনসিপি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন মীর আরশাদুল।

এনসিপিতে তিনি কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিবের পাশাপাশি নির্বাহী কাউন্সিলের সদস্য, মিডিয়া সেল ও শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য, পরিবেশ সেলের প্রধান এবং চট্টগ্রাম মহানগরের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৬ আসনে দলটির মনোনয়নও পেয়েছিলেন তিনি। মীর আরশাদুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) সাবেক সহসভাপতি।

‘একটি বিশেষ ঘোষণা’ শিরোনামে দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আমি এই মুহূর্তে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলাম। চট্টগ্রাম-১৬ সংসদীয় আসনে (বাঁশখালী) এনসিপির হয়ে আমি নির্বাচন করছি না। আজকে একটি বিশেষ দিনে এ ঘোষণাটি দিচ্ছি, যেদিন দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সুস্বাগতম।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের প্রতিশ্রুতি নিয়ে এনসিপির যাত্রা শুরু হলেও গত ১০ মাসের অভিজ্ঞতায় তার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে দল ও দলের নেতারা সে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন। যে স্বপ্ন ও সম্ভাবনা দেখে তিনি এনসিপিতে যোগ দিয়েছিলেন, তার কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। দল ও বড় অংশের নেতারা ভুল পথে আছেন বলেই মনে করেন তিনি। এ কারণে এনসিপির সঙ্গে তার রাজনৈতিক সম্পর্ক আর নেই, তবে ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকবে বলে জানান তিনি।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মীর আরশাদুল বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন ছাড়া বিকল্প নেই। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী সময়ে তারেক রহমানের কার্যক্রম ও বক্তব্য পর্যালোচনা করে তার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ হচ্ছে—এই মুহূর্তে সবাইকে ধারণ করে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার দক্ষতা ও সক্ষমতা তারেক রহমানই রাখেন।

তিনি আরও মন্তব্য করেন, যখন অন্যান্য দল ধর্ম ও পপুলিজমকে প্রধান এজেন্ডা করে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা করছে, তখন তারেক রহমান স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশসহ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ে একটি স্পষ্ট ভিশন জাতির সামনে তুলে ধরছেন। আগামী দিনে জনগণের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ, সংস্কৃতি ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন খাতভিত্তিক সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত সমাধানের কথা তিনি বলছেন। এই স্মার্ট অ্যাপ্রোচ তাকে আকৃষ্ট করেছে।

তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পপুলিজম বা কোনো হুজুগে প্রভাবিত না হয়ে দেশের সামগ্রিক স্বার্থ, ভবিষ্যৎ ও কল্যাণের কথা বিবেচনা করে তারেক রহমানের জনকল্যাণমূলক ভিশন বাস্তবায়নে সহযোগিতা ও সমর্থন জানানো উচিত। তিনি ব্যক্তিগতভাবে তার পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করেন।