শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১০ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

১০ দিনের মধ্যে হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আসছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী ১০ দিনের মধ্যে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কোর কমিটির বৈঠক শেষে তিনি বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তদন্তে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে, তবে তদন্তের স্বার্থে সবকিছু এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

তিনি জানান, এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন ঘটনার মূলহোতা ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু, গার্লফ্রেন্ড মারিয়া আক্তার লিমা, মো. কবির, নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, সিবিয়ন দিও, সঞ্জয় চিসিম, মো. আমিনুল ইসলাম রাজু ও মো. আব্দুল হান্নান। তাদের মধ্যে ৬ জন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে এবং ৪ জন সাক্ষীও আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি বিদেশি পিস্তল, ৫২ রাউন্ড গুলি, ম্যাগাজিন, ছোরা, মোটরসাইকেল, ভুয়া নম্বর প্লেট, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা গুলির খোসা, বুলেট, সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৫৩টি অ্যাকাউন্টের মোট ২১৮ কোটি টাকার স্বাক্ষরিত চেকও উদ্ধার করা হয়েছে। ডিএমপি ইতোমধ্যে মামলার অগ্রগতি বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করেছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তারদের তথ্য, সাক্ষীদের জবানবন্দি ও উদ্ধারকৃত আলামত পর্যালোচনায় মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ৭ জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে চার্জশিট দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ফ্যাসিস্টের দোসর, দুষ্কৃতকারী ও সন্ত্রাসীরা বিচার প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটাতে তৎপর। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি আশ্বস্ত করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই হাদি হত্যার বিচার সম্পন্ন হবে।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে সুযোগসন্ধানী ও খোলস পাল্টানো দুষ্কৃতকারীরা প্রবেশ করছে। দলগুলোকে এসব বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে এবং প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিতে হবে।

অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ অভিযানে ১৩ ডিসেম্বর থেকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯৯৯৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় ১০২টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৫৩ রাউন্ড গুলি, ১৬৯ রাউন্ড কার্তুজ, ৮৯টি দেশীয় অস্ত্র, গ্রেনেড, মর্টারের গোলা, গান পাউডার, আতশবাজি ও বোমা তৈরির উপকরণ উদ্ধার করা হয়। মামলা ও ওয়ারেন্টমূলে আরও ১২,৩৪৮ জনসহ সর্বমোট ২২,৩৪১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাচন অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মূল আসামি মো. রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ময়মনসিংহে ধর্ম ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে হত্যার ঘটনায় র‍্যাব ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা পৃথক অভিযানে আরও ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

এছাড়া গত ২৬ ডিসেম্বর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ হাউজিং এলাকায় মাদ্রাসা ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনায় র‍্যাব ঘটনাস্থল থেকে ককটেল, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড, অন্যান্য কেমিক্যাল, বই ও স্প্লিন্টার উদ্ধার করেছে। মূলহোতা আলামিন পলাতক রয়েছে, তার বিরুদ্ধে ৬টি মামলা আছে। র‍্যাব নারায়ণগঞ্জ থেকে তার সহযোগী আহসান উল্লাহ ওরফে হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে।