শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১০ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

স্বামীর পাশে চিরনিদ্রায় আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সংসদভবন এলাকার জিয়া উদ্যানে তার স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার দাফন সম্পন্ন হয়।

দীর্ঘদিন গুরুতর অসুস্থতায় ভোগার পর গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন খালেদা জিয়া। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

আজ বিকেল সাড়ে ৪টার কিছু সময় আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেন দলীয় নেতাকর্মী ও লাখ লাখ সাধারণ মানুষ।

৭৯ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থরাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার, ফুসফুস, হৃদ্‌যন্ত্র ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে দেশে ফেরেন। তবে গত ২৩ নভেম্বর আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। দেড় মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান।

গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে এসে টানা ৪৩ বছর বিএনপিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৮৪ সালের কাউন্সিলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। মৃত্যুর দিন পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপির নেতৃত্বে থেকে তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের পর তিনি পান ‘আপসহীন নেত্রী’র উপাধি। বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে ইতিহাসে নাম লেখান তিনি।

তার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়েছিল স্বামী জিয়াউর রহমানকে হারানোর বেদনা থেকে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান হত্যার পর সংকটে পড়ে বিএনপি। সেই সময়ে সাধারণ গৃহবধূ থেকে উঠে এসে খালেদা জিয়া দলের হাল ধরেন।

চার দশকের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে খালেদা জিয়াকে কখনো ব্যক্তিগত আক্রমণ করতে দেখা যায়নি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “আমি কখনো ব্যক্তিগত আক্রমণ করে কথা বলি না।”