শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৭ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১১ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

ওসমান হাদির হত্যার বিচার ঝুলে না যাক : নাঈম আহমাদ

মুক্তবাণী অনলাইন : ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ)-এর প্রধান সংগঠক নাঈম আহমাদ বলেছেন, সিরাজ শিকদারের মতো শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচারও যেন ঝুলে না যায়।

তিনি অভিযোগ করেন, ভারতে পালাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ফ্যাসিবাদী শাসন টিকিয়ে রাখতে অসংখ্য হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। একইভাবে তার পিতা শেখ মুজিবুর রহমানও বাকশালী শাসন টিকিয়ে রাখতে গুম, খুন ও ক্রসফায়ারের মাধ্যমে ভিন্নমত দমন করেছিলেন। বিদেশে বসে শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের বক্তব্য থেকেও বোঝা যায়, তিনি সহিংস রাজনীতির ধারক।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সিরাজ শিকদারের হত্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত “সিরাজ শিকদার: রাষ্ট্র, ভিন্নমত ও হত্যার রাজনীতি” শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

নাঈম আহমাদ বলেন, ইতিহাসে জানা যায় ১৯৭৫ সালের ২ জানুয়ারি সর্বহারা পার্টির নেতা বিপ্লবী সিরাজ শিকদার শেখ মুজিব সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে নিহত হন। এটি স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হেফাজতে প্রথম আলোচিত হত্যাকাণ্ড এবং প্রথম ‘ক্রসফায়ার’। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র জনতাকে হত্যা করে শেখ হাসিনা যেমন ক্ষমতায় দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারেননি, তেমনি সিরাজ শিকদারের হত্যার পরও শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষমতায় বেশিদিন থাকতে পারেননি।

তিনি আরও বলেন, শেখ পরিবারের ক্ষমতায় টিকে থাকার দুটি প্রধান অবলম্বন ছিল—রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে গুম, খুন ও ক্রসফায়ারের মাধ্যমে ভিন্নমত দমন এবং দিল্লির সাম্রাজ্যবাদী শক্তির প্রশ্রয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানো। তার মতে, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেখ পরিবারের অপরাজনীতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তা সম্ভব হয়নি।

নাঈম আহমাদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ পরিবারমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন দেশকে সুখী, সমৃদ্ধ ও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও আওয়ামী লীগ যেন রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ না পায়। বিভিন্ন দলের ব্যানারে এবং স্বতন্ত্রভাবে অনেক আওয়ামী সন্ত্রাসী আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের চেষ্টা করছে; এদের প্রতিহত করতে হবে।

তিনি আরও দাবি করেন, শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় সজীব ওয়াজেদ জয়ের ভূমিকা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সিরাজ শিকদারের হত্যার বিচার যেমন কোনো সরকার করেনি, ওসমান হাদির হত্যার বিচারও যেন ঝুলে না যায়—এ বিষয়ে দেশপ্রেমিক জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনা সভায় আপ বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, সিরাজ শিকদার ভারতীয় আধিপত্যবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় শেখ মুজিবের চক্ষুশূলে পরিণত হন এবং তার নির্দেশেই তিনি হত্যার শিকার হন। নির্মম পরিহাস হলো, দিল্লি শেষ পর্যন্ত শেখ মুজিবকেও রক্ষা করেনি; তিনিও রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে গুম-খুনমুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।

আপ বাংলাদেশের মুখপাত্র শাহরীন সুলতানা ইরার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম প্রধান সংগঠক মো. আহছান উল্লাহ ও তৌসিব মাহমুদ সোহান, প্রচার ও জনসংযোগ কমিটির সদস্য মো. ইমরান হোসেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক মোস্তফা শাহরিয়ার, চাঁদপুর জেলার আহ্বায়ক মো. শাহাদাৎ হোসাইন, শ্রমিক উইংয়ের সংগঠক রাফিম হাসনাত হিজবু, যুব উইংয়ের সংগঠক নূরে আলম তোহা এবং রাঙ্গাবালী উপজেলার সদস্য সচিব জুবায়ের আহমদ প্রমুখ।