নিজস্ব প্রতিবেদক : ব্যালট পেপারে অনিয়ম এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ের সামনে রাত পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রদল।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এক বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে নির্বাচন কমিশন হঠকারী এবং অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
তিনি আরও জানান, তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের এই শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি চলবে রাত অবধি। এর আগে সকাল ১১টায় পূর্ব নির্ধারিত ‘নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি’ পালন করতে এসে বসে পড়েন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণসহ বিভিন্ন থানা থেকে সহস্রাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। নির্বাচন ভবনের সামনের সড়কে পুলিশের ব্যারিকেডের সামনে এবং বিপরীত পাশের সড়কে অবস্থান নেন তারা। খণ্ড খণ্ডভাবে কয়েকটি গ্রুপ সড়কে ঘুরে ঘুরে স্লোগান দিতে দেখা যায়।
নির্বাচন কমিশনের সামনের সড়কে বসে পড়ার কারণে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পথচারীদের বিকল্প পথে চলাচল করতে হয়।
এর আগে সকাল ১১টার আগে নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে আসেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।
ছাত্রদল তাদের অবস্থান কর্মসূচিতে তিনটি অভিযোগ উত্থাপন করেছে:-
১. পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে।
২. বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে ইসি, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
৩. বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে ইসি নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত।