শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১০ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

গণভোটে সরকারের প্রকাশ্য সমর্থন নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রেস উইংয়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়নে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রকাশ্য সমর্থন গণতান্ত্রিক আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, আসন্ন গণভোটে সরকারের প্রকাশ্য সমর্থন অন্তর্বর্তী প্রশাসনের নিরপেক্ষতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে—এমন মন্তব্য সম্প্রতি সামনে এসেছে। তবে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, অন্তর্বর্তী সরকারের ম্যান্ডেট এবং আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চার আলোকে মূল্যায়ন করলে এ ধরনের সমালোচনার ভিত্তি নেই।

প্রেস উইং জানায়, সংকটময় সময়ে নীরবতা নিরপেক্ষতার প্রতীক নয়; বরং তা দায়িত্বশীল নেতৃত্বের অভাবকে ফুটিয়ে তোলে। বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ছয়টি মূল কারণ তুলে ধরে ব্যাখ্যা দিয়েছে।

১. অন্তর্বর্তী সরকারের ম্যান্ডেট সংস্কার, আনুষ্ঠানিকতা নয়- অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শুধু দৈনন্দিন রাষ্ট্র পরিচালনা বা নিরপেক্ষ নির্বাচন তত্ত্বাবধানের জন্য গঠিত হয়নি। দীর্ঘদিনের অপশাসন ও জনঅনাস্থার প্রেক্ষাপটে গঠিত এই সরকারের মূল দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল করা, গণতান্ত্রিক বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কারের কাঠামো তৈরি করা।

২. সুপরামর্শ গণতান্ত্রিক পছন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ- আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চায় সরকার প্রধানদের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন নিয়ে নীরব থাকার বাধ্যবাধকতা নেই। বরং প্রত্যাশা করা হয় তারা জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয় সংস্কারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরবেন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জনগণের ওপর ছেড়ে দেবেন।

৩. নেতৃত্ব অপরিহার্য- বাংলাদেশের সংস্কার গণভোট কোনো বিমূর্ত নীতিগত প্রশ্ন নয়; এটি দীর্ঘদিনের শাসনব্যর্থতার জবাব। এই বাস্তবতায় প্রধান উপদেষ্টার অবস্থান ধারাবাহিকতা ও জবাবদিহিতার প্রকাশ।

৪. আন্তর্জাতিক নজির- যুক্তরাজ্য, স্কটল্যান্ড, তুরস্ক, কিরগিজস্তান ও ফ্রান্সসহ বহু দেশে সরকারপ্রধানরা গণভোটে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন। এসব ঘটনাকে গণতান্ত্রিক রীতির লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হয়নি।

৫. সরকারি প্রচারণা মানেই জোরজবরদস্তি নয়- জেলা পর্যায়ে প্রচারণার উদ্দেশ্য হলো সংস্কারের বিষয়বস্তু জনগণের কাছে স্পষ্ট করা। এটি বিরোধী মত দমন করে না; বরং নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।

৬. উপসংহার– অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারমূলক ম্যান্ডেট, প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠনের জরুরি প্রয়োজন, আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যতা এবং ভোটারদের প্রতি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নীতি—সবকিছুই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারের অবস্থানকে গণতান্ত্রিক দায়িত্ব হিসেবে প্রতিফলিত করে।

শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত জনগণের। নেতৃত্ব সেই সিদ্ধান্ত কেড়ে নেয় না; বরং তা স্পষ্ট ও অর্থবহ করতে সহায়তা করে।