মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২৭ রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ওড়িশায় খ্রিস্টান যাজকের ওপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ওড়িশার ঢেঙ্কানাল জেলায় এক খ্রিস্টান যাজকের ওপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের অভিযোগে অভিযুক্ত করে ওই যাজককে কেবল মারধরই করা হয়নি, বরং বলপূর্বক গোবর খাওয়ানো এবং নর্দমার জল পানে বাধ্য করার মতো চরম অবমাননাকর ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

গত ৪ জানুয়ারি এ ঘটনা ঘটে। তবে ভুক্তভোগীর স্ত্রী দাবি করেছেন, প্রাথমিক অভিযোগের পরও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনীতি না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের বরাতে জানা যায়, ওই দিন যাজক বিপিন বিহারী নায়ক তার স্ত্রী বন্দনা নায়ক এবং আরও সাতটি খ্রিস্টান পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একটি বাড়িতে প্রার্থনা সভায় অংশ নিচ্ছিলেন। গ্রামটি হিন্দু-প্রধান এলাকা, যেখানে মাত্র সাতটি খ্রিস্টান পরিবার বাস করে। হঠাৎ প্রায় ১৫ থেকে ৪০ জনের একটি দল, যাদের মধ্যে বজরং দলের সদস্যরা ছিলেন বলে অভিযোগ, ঘরে ঢুকে সবাইকে লাঠি দিয়ে মারধর করে। যাজক নায়ককে বিশেষভাবে লক্ষ্য করে আক্রমণ করা হয়। তাকে লাল সিঁদুর মাখানো হয়, চপ্পলের মালা পরানো হয়, গ্রামে প্যারেড করানো হয় এবং হনুমান মন্দিরে হাত পিছনে বেঁধে রাখা হয়। সেখানে তাকে গরুর গোবর খাওয়ানো হয় এবং চড় মেরে ‘জয় শ্রী রাম’ বলতে বাধ্য করা হয়।

যাজকের স্ত্রী বন্দনা নায়ক বলেন, “তারা ঘরের ভিতর সবাইকে মারধর করতে শুরু করে। আমাদের সঙ্গে সাতটি পরিবার প্রার্থনা করছিল। আমি এবং আমার সন্তানরা কোনোমতে একটি সরু গলি দিয়ে পালিয়ে নিকটবর্তী পুলিশ স্টেশনে যাই।”

তিনি আরও জানান, “আমার স্বামীকে গ্রামের হনুমান মন্দিরে বেঁধে রাখা হয়। তার হাত দুটো রডের পিছনে বাঁধা ছিল। তাকে গরুর গোবর খাওয়ানো হয় এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় ছিলেন। লোকেরা তাকে চড় মারছিল এবং জয় শ্রী রাম বলতে বাধ্য করছিল।”

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘটনার দিনই স্থানীয় পরজং থানায় অভিযোগ করা হলেও পুলিশ ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করে। দীর্ঘ ৯ দিন পর ১৩ জানুয়ারি জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে একটি আনুষ্ঠানিক এফআইআর দায়ের করা হয়।

ঢেঙ্কানাল জেলা পুলিশ সুপার অভিনব সোনকর জানান, এ ঘটনায় চারজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং বিষয়টির আরও তদন্ত চলছে। তবে তিনি বলেন, অভিযোগে গোবর খাওয়ানোর কথা উল্লেখ নেই; বরং ড্রেনের পানি পান করানো এবং মন্দিরে জোর করে প্রণাম করানোর অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে ওই যাজকের বিরুদ্ধে ধর্মান্তরণের অভিযোগে একটি কাউন্টার এফআইআরও দায়ের করা হয়েছে।

ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কংগ্রেস দল এক্স-এ একটি পোস্টে এটিকে “নতুন নিম্নতা” বলে অভিহিত করে দাবি করেছে যে, ভুক্তভোগী যাজককে গরুর গোবর খাওয়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য মিডিয়া ইনচার্জ সুজিত দাস বিরোধীদের অভিযোগ করে বলেন, তারা বিষয়টিকে রাজনৈতিকীকরণ করছে।

তার ভাষ্য, “আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ভয় বা পক্ষপাত ছাড়াই কাজ করতে দেওয়া উচিত। তারা আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেবে।”

রাষ্ট্রীয় খ্রিস্টান মোর্চার ওড়িশা ইউনিটের জেনারেল সেক্রেটারি বিশপ পল্লব লিমা অভিযোগ করে বলেন, খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে ভুয়ো ধর্মান্তরণের অভিযোগে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে এবং সাধারণ প্রার্থনা সভাকেও ধর্মান্তরণের সঙ্গে যুক্ত করে দেখানো হচ্ছে।

বর্তমানে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।