নিজস্ব প্রতিবেদক : শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে টাঙ্গাইলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার(১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে সাতটায় শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
টাঙ্গাইল শহরের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় ও মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র সহ বেশকিছু কেন্দ্র পরিদর্শন করে দেখা যায় ভোটাররা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। ভোটকেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কঠোর অবস্থানে দেখা গেছে।
এ দিকে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে শহরের বেতকা মুন্সিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল ৮টায় ভোট দেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও ধানের শীষের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
ভোট দেওয়ার পর টুকু সাংবাদিকদের জানান, দীর্ঘ সতের বছর পর ভোট দিতে পেরে মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। বাকি আল্লাহ রব্বুল আলামিনের ওপর ভরসা রাখছি। মানুষের সঙ্গে যেভাবে মিশেছি এবং যেভাবে তারা আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন, তাতে আমি আশাবাদী।
তিনি বলেন, অনেকেই অনেক রকম কথা বলে, অপপ্রচার চালায়, ষড়যন্ত্র করে। কিন্তু আমি কখনো কারও বিরুদ্ধে কথা বলিনি, বলবও না। আমি কাজ দিয়ে এগোতে চাই। ইনশাআল্লাহ, সেই কাজের মাধ্যমেই মানুষের মন জয় করতে পেরেছি বলে বিশ্বাস করি। ভোটের মাধ্যমেই টাঙ্গাইল সদরের জনগণ তার জবাব দেবে।
জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা ইতোমধ্যে গুপ্ত সংগঠন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। স্বাধীনতাবিরোধী ও গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি কখনোই গণতন্ত্র চায় না। দেশের মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে স্বাধীনতার পক্ষের সব শক্তি ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকবে, এটাই স্বাভাবিক।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক মনে হচ্ছে। দিনের শুরুটা ভালোই হয়েছে, কোথাও কোনো ঝামেলা হয়নি। সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ চলছে।
জেলার ৮টি সংসদীয় আসনে নির্বাচনে মোট ৪৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলায় মোট ভোটার ৩৩ লাখ ৩৪ হাজার ৪০০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৬ লাখ ৭১ হাজার ৬৩০ জন এবং নারী ভোটার ১৬ লাখ ৬২ হাজার ৭৭২ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২৫ জন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শরীফা হক জানান, উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে জেলায় ৬৮ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ১২ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাবসহ পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত রয়েছে।