মুক্তবাণী রিপোর্ট : বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে ভারত উন্মুখ। সেই সঙ্গে উভয় দেশের মধ্যে বহুমুখী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদার করার বিষয়ে ভারতের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।-সূত্র: এএনআই।
শুক্রবার সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বিষয়টি জানান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।’
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন যে বাংলাদেশে নির্বাচন শেষ হওয়ার পর আমাদের প্রধানমন্ত্রী সেখানকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। গত ১৭ তারিখ শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমাদের স্পিকার ওম বিড়লা। সেখানে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর একটি চিঠি হস্তান্তর করেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও করেন।
হস্তান্তর করা ওই চিঠিতে একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানানোয় ভারতের অঙ্গীকারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।’
তিনি আরো উল্লেখ করেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ভারত সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির ব্যক্তিগত চিঠিটি তারেক রহমানের হাতে তুলে দেন।
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান উষ্ণ ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে বহুমুখী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করতে আগ্রহী। আমরা নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে এবং দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলোকে এগিয়ে নিয়ে যেতে উন্মুখ।’
ভিসা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল জানান, ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বৃদ্ধি ও শক্তিশালী করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে এবং নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের সমস্ত দিক নিয়ে আলোচনা করা হবে।
এর আগে, ওম বিড়লা ঢাকায় বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে একটি ব্যক্তিগত আমন্ত্রণ পৌঁছে দেন।
লোকসভা সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভারতের জনগণের পক্ষ থেকে ওম বিড়লা তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান এবং একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের প্রচেষ্টায় ভারত পাশে থাকবে বলে পুনরায় আশ্বস্ত করেন। তিনি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্ব আরো জোরদার করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানের ফাঁকে ওম বিড়লা মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগেসহ অন্যান্য নেতাদের সঙ্গেও দেখা করেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের উষ্ণ আমন্ত্রণ জানান। চিঠিতে মোদি তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমানকেও তার সঙ্গে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
চিঠিতে মোদি আরো উল্লেখ করেন, তিনি কানেক্টিভিটি, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা এবং সাংস্কৃতিক ও জনগণের সঙ্গে জনগণের মেলবন্ধন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করতে বাংলাদেশের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রত্যাশা করছেন।
চিঠিতে বলা হয়, দুটি দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী সমাজ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশ একে অপরের টেকসই উন্নয়নের অনুঘটক হতে পারে, একে অপরের নিরাপত্তার জন্য কাজ করতে পারে এবং পারস্পরিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারে।
এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গত মঙ্গলবার বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ জয় লাভ করে, যেখানে দলটির নেতৃত্বাধীন জোট ৩০০ আসনের সংসদের ২১২টি আসনে বিজয়ী হয়।