খুলনা প্রতিনিধি : খুলনা সিটি করপোরেশনে (কেসিসি) পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন খুলনা নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ (সিটি করপোরেশন-১ শাখা) গতকাল রোববার এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
শারীরিকভাবে অসুস্থ নজরুল ইসলাম মঞ্জু বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। আজ সোমবার দুপুরে তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করব। নগরবাসীর সকল সুযোগ-সুবিধার জন্য কাজ করব। নাগরিক জীবন সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদ রাখতে প্রচেষ্টা থাকবে। খুলনা নগরের মানুষ দৈনন্দিনভাবে যে সমস্যার সম্মুখীন হয়, তা দূর করে স্বস্তি ফিরিয়ে আনাই হবে আমার মূল দায়িত্ব।”
দীর্ঘ ২৮ বছর খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এর মধ্যে ১৬ বছর সাধারণ সম্পাদক এবং ১২ বছর সভাপতি ছিলেন। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোটের ভরাডুবির মধ্যেও খুলনা-২ আসনে জয় পান নজরুল ইসলাম মঞ্জু। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একই বছরের খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছিলেন তিনি, তবে দুবারই পরাজিত হন। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর কাছে তাঁর পরাজয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দেয়।
এবারের নির্বাচনের পর বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে দোষারোপের প্রবণতা বাড়ে। দলীয় সমন্বয়ের ঘাটতি ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে মঞ্জুর পরাজয়ের বড় কারণ হিসেবে দেখা হয়। ভবিষ্যতে বিএনপি এই আসনে ঐক্যবদ্ধ হতে পারবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী কে হবেন, তা নিয়েও গুঞ্জন ওঠে। এসব আলোচনার মধ্যেই মঞ্জুকে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো।
প্রশাসক নিয়োগের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা তাঁকে অভিনন্দন জানান। সদ্য নির্বাচনী পরাজয়ের পর এটিকে রাজনৈতিকভাবে স্বস্তির ঘটনা হিসেবে দেখছেন অনেকেই।
২০২১ সালে কেন্দ্র থেকে খুলনা মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হলে মঞ্জুকে সভাপতির পদ থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর তিনি সংবাদ সম্মেলন করে নতুন কমিটির পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানান। পরবর্তীতে তাঁকে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ সময় থেকে বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। তবে দলীয় পদ হারানোর পরও তিনি রাজনীতি থেকে সরে যাননি।
এবারের নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণার পর নগর বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বের অনেকেই তাঁর প্রার্থিতা মেনে নিতে পারেননি। প্রাথমিক মনোনয়ন ঘোষণার পরও দুই পক্ষ আলাদা কর্মসূচি পালন করে। তবে শেষ পর্যন্ত বিরোধ মিটিয়ে তাঁরা মাঠে নামেন। নির্বাচনে হারের পর আবারও দুই পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি হয়।
মঞ্জুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মহানগর বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক তারিকুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “সুযোগ আবারও এসেছে, আসুন সকলে মিলে বিএনপি নামক অস্তিত্বটাকে শক্তিশালী করি। আমাদের এক পক্ষ হতে হবে। আর এক পক্ষ হওয়ার শর্ত হচ্ছে সব পক্ষ থেকে খারাপ লোকের অস্তিত্ব মুছে ফেলতে হবে। নিজের পক্ষকে নিখুঁত আর অন্যদের আবর্জনা ভাবার মানসিকতা থেকে বের হতে হবে।”