বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৩ ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৮ রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

পিলখানা হত্যাযজ্ঞের ১৭ বছর, জাতীয় শহীদ সেনা দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানা সদর দপ্তরে তথাকথিত বিদ্রোহের আড়ালে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ১৭ বছর পূর্ণ হলো আজ। তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর)—বর্তমান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)—এর এই ঘটনায় মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা এবং আরও ১৭ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন; মোট প্রাণহানি ঘটে ৭৪ জনের। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি অন্যতম বিভীষিকাময় ও শোকাবহ হত্যাযজ্ঞ হিসেবে বিবেচিত।

গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গতবছর বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভীষিকাময় ও শোকাবহ এ দিনটি জাতীয় শহীদ সেনা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়।দীর্ঘ সময় ধরে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির বাইরে থাকা এই দিনটিকে নতুনভাবে স্মরণ করার সিদ্ধান্তকে অনেকে জাতির প্রতি দায়বদ্ধতার প্রকাশ হিসেবে দেখছেন।

ঘটনাকালে সেনা কর্মকর্তাদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয় এবং বহু মরদেহ গোপন ও ধ্বংসের চেষ্টা চালানো হয় বলে তদন্তে উঠে আসে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের ওপরও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি শুধু একটি অভ্যন্তরীণ সংকট নয়; বরং দেশের নিরাপত্তা কাঠামো ও সার্বভৌমত্বের ওপর গুরুতর আঘাত হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে।

এই হত্যাযজ্ঞে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী হারায় তাদের বহু অভিজ্ঞ, মেধাবী ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা—যা সশস্ত্র বাহিনীর পেশাগত সক্ষমতা ও মনোবলে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। ফলে দিনটি কেবল সেনাবাহিনীর নয়, পুরো জাতির জন্যই শোক ও স্মরণের দিন হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ২০০৯ সালের এই দিনে সংঘটিত সেনা হত্যাযজ্ঞ দীর্ঘদিন যথাযথ গুরুত্ব পায়নি; তবে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দিনটিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, পিলখানার ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া চলমান থাকায় বিস্তারিত মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তবে তার মতে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী তৎপরতা সক্রিয় ছিল—এ বিষয়ে নাগরিকদের সচেতন থাকা প্রয়োজন। ঘটনার পর বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচারের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টাও হয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সম্মান, বীরত্ব ও নিরাপত্তার প্রতীক হলো তার সশস্ত্র বাহিনী। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ষড়যন্ত্র আর কখনও সফল না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

পিলখানার সেই রক্তাক্ত ঘটনা আজও জাতির স্মৃতিতে এক গভীর ক্ষত হয়ে আছে—যেখানে শোক, বেদনা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে অনুত্তরিত প্রশ্ন একসঙ্গে জড়িয়ে আছে। নিহতদের স্মরণ এবং ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা গ্রহণ—এই দুই লক্ষ্যেই দিনটি পালন করা হচ্ছে।