সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৭ ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১২ রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

প্রেমের ফাঁদে কোটি টাকা, নোবেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

বিনোদন ডেস্ক : প্রেম ও বিয়ের প্রলোভন, রিহ্যাব থেকে ছাড়ানোর নামে অর্থ সংগ্রহ, মামলায় আপোষের আশ্বাস এবং আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি—এমন একাধিক অভিযোগে সংগীতশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গত ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট এক ভুক্তভোগী নারী নোবেলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় নোবেলের মা নাজমা হোসেন, স্ত্রী ইসরাত জাহান প্রিয়া, পরিচিত মাসুদ রানা ও সহকারী মুনেম শাহ সৌমিককেও আসামি করা হয়।

মামলাটিতে আপোষের শর্তে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি জামিন পান নোবেল। তবে জামিনের পর ভুক্তভোগী আবার শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

সম্প্রতি আদালতে জমা দেওয়া পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর প্রতিবেদনে আর্থিক লেনদেনের কিছু প্রমাণ মিললেও শারীরিক নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত অভিযোগে পর্যাপ্ত আলামত পাওয়া যায়নি। মামলাটি দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২–এর অধীনে দায়ের করা হয়।

তদন্ত শেষে গত ৭ জানুয়ারি উপ-পরিদর্শক নুরুজ্জামান অভিযুক্ত পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে ২ ফেব্রুয়ারি আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

পরিচয় থেকে প্রেম, এরপর অর্থ লেনদেন

বাদী আনাননিয়া শবনম রোজ অনন্যা অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালের আগস্টে নোবেলের সঙ্গে পরিচয়ের পর সম্পর্ক প্রেমে রূপ নেয়। এরপর বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ দাবি শুরু হয়। তদন্তে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর পর্যন্ত একটি বিকাশ নম্বরে মোট ৬০ হাজার ৫৪০ টাকা পাঠানো হয়েছে।

রিহ্যাব পর্ব ও অর্থ সংগ্রহ

২০২৩ সালের নভেম্বরে নোবেল রিহ্যাবে ভর্তি হলে তাঁর সহকারী সৌমিক বাদীর কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন। বাদীর দাবি, নগদ ও মোবাইল লেনদেন মিলিয়ে সৌমিক মোট ৪ লাখ ৫৮ হাজার টাকা নেন। এ সংক্রান্ত অডিও রেকর্ডও পিবিআই জব্দ করেছে।

এনগেজমেন্ট ও অভিযোগিত নির্যাতন

২০২৪ সালের মার্চে নোবেলের সঙ্গে এনগেজমেন্ট সম্পন্ন হয়। তবে জুনে ডেমরার বাসায় ডেকে নিয়ে শারীরিক সম্পর্কের চেষ্টা, বাধা দিলে মারধর ও আপত্তিকর ছবি ধারণের অভিযোগ করেন বাদী। তদন্তে এ সংক্রান্ত কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

আপোষ আলোচনার অভিযোগ

বাদীর দাবি, নোবেলের পরিচিত মাসুদ রানা আপোষের কথা বলে যোগাযোগ করেন। নোবেলের স্ত্রী প্রিয়া প্রথমে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন, পরে তা ৫ লাখে নামান। বাদী মায়ের গয়না বিক্রি করে অর্থ প্রদান করেন বলে অভিযোগ।

মামলা, গ্রেফতার ও জামিন

২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে নোবেলকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন আদালতে হাজির হলে উভয় পক্ষ আপোষে সম্মতি জানায়। এরপর আদালত এক হাজার টাকা মুচলেকায় ২ এপ্রিল পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন।

জামিনের পর নতুন অভিযোগ

২৬ ফেব্রুয়ারি আদালত প্রাঙ্গণে বাদী অভিযোগ করেন, জামিনের পর নোবেল তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের হাতে আঘাতের দাগ দেখান। তাঁর মা বিবি কুলসুমও অভিযোগ করেন, জামিনের পর মেয়েকে বাসায় নিয়ে গিয়ে পুনরায় নির্যাতন করা হয়েছে।

আইনি অবস্থান

তদন্তে আর্থিক লেনদেনের কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে পর্নোগ্রাফি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে পর্যাপ্ত আলামত না থাকায় প্রমাণের মানদণ্ড পূরণ কঠিন হতে পারে বলে আইনজীবীরা মনে করছেন। বাদীপক্ষের দাবি, অভিযুক্তরা সহযোগিতা করলে আরও তথ্য উদঘাটিত হতে পারত।