এম আবদুল্লাহ
এম আবদুল্লাহ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন ১০ দিন বয়সি সরকার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণে অনেক জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশেষত, আলোচিত ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, ই-হেলথ কার্ড ও খাল খনন কার্যক্রম শুরু করতে সেল গঠন এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফে এরই মধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ জনমনে আশার সঞ্চার করেছে। এসব ইতিবাচক পদক্ষেপের নানা দিক পর্যালোচনা করতে বসে খানিকটা হোঁচট খেতে হচ্ছে। চাঞ্চল্যকর পাশবিক নির্যাতন ও নৃশংস হত্যার একাধিক ঘটনা আশাজাগানিয়া উদ্যোগগুলো ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসছে।
নরসিংদীতে নরপশুদের হাতে ধর্ষিত কিশোরী আমেনার সরিষাক্ষেতে পড়ে থাকা বিধ্বস্ত নিথর দেহ নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্নকে ধূসর করে দিচ্ছে। বাবার হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা নতুন সরকারের জনবান্ধব নানা পদক্ষেপকে পাশে ঠেলে গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনাটি একই সঙ্গে হৃদয়বিদারক ও উদ্বেগজনক। সে প্রসঙ্গে বিস্তারিত আলোকপাতের আগে ঋণগ্রস্ত কৃষকদের জন্য পবিত্র রজমান মাসে দেওয়া সুখবরটির দিকে খানিকটা নজর দিয়ে আসা যাক।
অটোমান সাম্রাজ্যের একটি অসাধারণ ঐতিহ্যের কথা সম্প্রতি এক নিবন্ধে পড়লাম। এটি প্রচলিত সামাজিক সংহতির এক অনন্য উদাহরণ ছিল। মহৎ সেই কাজটি ছিল পবিত্র রমজান মাসে মুদিদোকান বা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ‘বাকির খাতা’ কিনে নেওয়া এবং অভাবী মানুষের অজান্তেই তাদের দায় পরিশোধ করে দেওয়া। এই রীতিটি ‘দাফাতিরুল খায়ের’, অর্থাৎ কল্যাণের নথি নামেও পরিচিত। মূলত রীতিটি ছিল একটি মানবিক কাজ, যা পারস্পরিক সংহতি ও সহমর্মিতার অনন্য দৃষ্টান্ত।
একটি কল্যাণ রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বিত্তবানরা গোপনে দরিদ্রদের ঋণ পরিশোধ করতেন, যা পবিত্র রমজান মাসে তাদের আর্থিক বোঝা লাঘব করত। ধনী ও দানশীল ব্যক্তিরা মহল্লার দোকান বা মুদিখানায় যেতেন এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বাকির খাতাটি দেখতে চাইতেন। এরপর তারা খাতায় থাকা দেনার টাকা পুরোটা অথবা আংশিক পরিশোধ করে দিতেন। সবশেষে দোকানদারকে নির্দেশ দিতেন সেই দেনার পাতাগুলো ছিঁড়ে ফেলতে। এই মহতী কাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিলÑযিনি দেনা শোধ করছেন এবং যার দায় শোধ হচ্ছে—কেউ কারো পরিচয় জানতেন না। মূলত দায়গ্রস্তের আত্মসম্মান রক্ষা করতেই এই গোপনীয়তা বজায় রাখা হতো। এর একটি লক্ষ্য ছিল বিত্তবানরা যেন অভাবীদের সাহায্যে হাত বাড়িয়ে দেন এমনভাবে, যাতে সেখানে দয়া দেখানোর দম্ভ বা গ্রহীতার জন্য কোনো সংকোচ না থাকে। বিশেষ করে, রহমত ও বরকতের মাস রমজানে মানুষের আর্থিক কষ্ট দূর করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য।
আধুনিক রাষ্ট্র ও সমাজে এ ধরনের কোনো মহতী উদ্যোগের তথ্য জানা নেই। বর্তমান সরকারের কৃষকের ঋণ মওকুফের উদ্যোগটি উসমানীয় সাম্রাজ্যের সেই মহানুভবতার সঙ্গে তুল্য নয়। তবে পবিত্র রজমান মাসে বাংলাদেশের কৃষককুলের জন্য স্বস্তির বার্তা তো বটেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর হাঁটছেন না, কার্যত দৌড়াচ্ছেন। সহযাত্রী মন্ত্রীরা দৌড়ের ওপর আছেন। রমজান মাসে ৯টার আগেই অফিসে পৌঁছাতে হচ্ছে তাদের। যখন-তখন ডাক পড়ছে। একের পর এক কমিটি করে, দায়িত্ব দিয়ে সবাইকে ব্যতিব্যস্ত রেখেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের মাত্র ১০ দিনের মাথায় ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্তটি সরকারের একটি সময়োচিত এবং ইতিবাচক পদক্ষেপ। গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকেই নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে শুধু একটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হিসেবে দেখলেই হবে না, বরং গ্রামীণ অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং প্রান্তিক কৃষকের মেরুদণ্ড শক্তিশালী করার বলিষ্ঠ প্রয়াস হিসেবে দেখতে হবে। এ খাতে সরকারের ব্যয় হবে ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। প্রচণ্ড আর্থিক চাপে থাকা নতুন সরকারের জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না। দেড় হাজার কোটি টাকার অধিক ঋণের বোঝা থেকে দেশের প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে মুক্তি দেবে সাহসী এই সিদ্ধান্ত। কৃষিনির্ভর গ্রামীণ জনপদে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বস্তি ও নতুন উদ্দীপনা সঞ্চার করবে বলে আশা করা যায়।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষি ও কৃষকের অবদান অনবদ্য। জিডিপিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন কৃষক। কিন্তু বিনিময়ে তারা পাচ্ছেন খুবই কম। সার-বীজের সংকট, প্রয়োজনীয় সেচের অভাবে কৃষকদের প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করতে হচ্ছে।
শস্য, মৎস্য ও পশুপালন খাতের ক্ষুদ্রচাষিরা আমাদের অর্থনীতির প্রাণশক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখেন। কিন্তু মহাজনি ঋণের উচ্চ সুদ এবং ব্যাংকের কিস্তির চাপে অনেক সময়ই তারা দিশাহারা হয়ে পড়েন। এই মওকুফের ফলে কৃষকের মাথায় থাকা ঋণের পাহাড় যেমন অপসারিত হলো, তেমনি তাদের ‘ক্রেডিট রেকর্ড’ বা ঋণমানও উন্নত হবে। পাশাপাশি কিস্তির টাকা সাশ্রয় হওয়ায় সেই অর্থ উন্নত বীজ, সার বা আধুনিক সেচ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে, যা প্রকারান্তরে দেশের মোট কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। জাতীয় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে।
অটোমান সাম্রাজ্যের মতো সরকারের এই সিদ্ধান্তের মানবিক দিকটিও উপেক্ষার মতো নয়। সরকারের প্রত্যাশা, ঋণের দায় থেকে মুক্তি পাওয়ায় প্রান্তিক পরিবারগুলো এখন বাড়তি অর্থ সন্তানদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করতে পারবে। এতে বৈষম্যহীন আর্থসামাজিক উন্নয়নের যে দর্শন বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে ছিল, তারই প্রতিফলন ঘটবে। এছাড়া আগামী ১০ মার্চ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর যে ঘোষণা এসেছে, সেটিও গ্রামীণ দারিদ্র্যবিমোচনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সরকার।
এবার হতভাগিনী আমেনার প্রসঙ্গে আসি। নরসিংদীর মাধবদীতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে ১৫ দিন আগে। ধর্ষণের শিকার আমেনা নামক সেই তরুণীকে তার বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে আবার ধর্ষণের পর হত্যা করেছে নরপশুরা। মাত্র ১৫ বছর বয়সি ফুটফুটে তরুণী আমেনা। বুধবার রাতে নিরাপত্তা সংকটে মেয়েকে পাশের খালার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পথে হায়েনার দল বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। দলবদ্ধ পাশবিক নির্যাতনের পর রাতের কোনো একসময় তাকে হত্যা করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে মাধবদীর কোতালিরচর দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষাক্ষেত থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় আমেনার নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নির্বাচনি ডামাডোলের মধ্যে স্থানীয় বখাটে নূরার নেতৃত্বে পাঁচ-ছয়জনের দল আমেনাকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। বিষয়টি পরিবারকে জানালে তারা স্থানীয় ইউপি সদস্য আহমদের কাছে বিচার প্রার্থনা করেন। তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দেন। এরপরও ধর্ষকরা দফায় দফায় আমেনাকে মারধর ও হেনস্তা করে। পুলিশ ঘটনাটি জানলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে দাবি পরিবারের। ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তার কারণে আমেনাকে প্রতিরাতে পাশের খালার বাড়িতে রাখা হতো।
চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী এ ঘটনার গুরুতর দিক হলো, কিশোরী ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর বিচার চাওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আবার আইনের শাসন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থার গভীর সংকটের দিকটি উৎকটভাবে সামনে এসেছে। প্রথমে ধর্ষণ, এরপর বিচার চাইতে গিয়ে হুমকি, এলাকা ছাড়ার চাপ এবং শেষ পর্যন্ত অপহরণ ও হত্যা। পুরো ঘটনায় অপরাধীরা কতটা বেপরোয়া এবং দায়মুক্তির সংস্কৃতি কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠেছে, তা স্পষ্ট হয়েছে।
অত্যন্ত পরিতাপের দিক হলো, ধর্ষণের ঘটনার পর পরিবারটি থানায় না গিয়ে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্যের কাছে যায়। সেখানে ন্যায়বিচারের বদলে ধামাচাপার চেষ্টা চলে। শুধু তাই নয়, ভুক্তভোগী পরিবারকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন সাবেক ইউপি সদস্য। ধর্ষকদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সুবিধা পেয়ে তিনি এ কাজ করেছেন কি নাÑতা তদন্তে গুরুত্ব দিতে হবে। তা না হলে তিনি কেন আইনের শাসনের পরিপন্থী আচরণ করলেন? জনপ্রতিনিধির ভূমিকা হওয়া উচিত ছিল পরিবারকে আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে সহায়তা করা। কিন্তু অনানুষ্ঠানিক সালিশের নামে প্রহসন ভুক্তভোগীকে আরো ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়। শেষ পর্যন্ত মর্মান্তিকভাবে জীবন দিতে হয়।
এ ঘটনায় সরকার মোটামুটি দ্রুতই পদক্ষেপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে এবং ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা ও তার ছেলেসহ সাত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাকে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে গাজীপুরের মাওনা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে মহিষাশুড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপি সহসভাপতি আহাম্মদ আলী দেওয়ান এবং তার ছেলে ইমরান দেওয়ানসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এছাড়া আরেক অভিযুক্ত হযরত আলীকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার রাতে আহাম্মদ আলীকে দল থেকে বহিষ্কারের কথা জানিয়েছে নরসিংদী সদর উপজেলা বিএনপি।
দ্রুততার সঙ্গে মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে পারা ইতিবাচক। কিন্তু ধর্ষণের অভিযোগ কেন থানা-পুলিশের কাছে যায়নি, কারা ধামাচাপায় ভূমিকা রেখেছে, পরিবারকে এলাকা ছাড়ার চাপ কে দিয়েছে, ধর্ষকদের দুঃসাহসের উৎস কীÑএসব প্রশ্নের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
বাংলাদেশে ধর্ষণ, হত্যা, নারী নির্যাতন কোনো নতুন ঘটনা নয়। ক্রমবর্ধমান সামাজিক অবক্ষয় ও নৈতিক মূল্যবোধের সংকট নারীর প্রতি সহিংসতা ও নিপীড়নের ঘটনার বিস্তার ঘটাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, ভোলায় বাক্প্রতিবন্ধী গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, ঢাকায় দুটি হত্যাকাণ্ড, হাতিয়ায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগসহ আলোচিত ঘটনাগুলো দেখায়, এই সমাজের কিছু নরাধম কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আইন ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল থাকা সত্ত্বেও তাদের প্রতিরোধ ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা না গেলে নতুন সরকারের অনেক অর্জনই ম্লান হবে।
যদিও দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলা হচ্ছে, অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নিতে হবে। অপরাধী যেই দলেরই হোক না কেন, কোনো ছাড় না দিতে সরকারের শীর্ষপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথাÑপ্রধানমন্ত্রীর এমন কড়া বার্তা দলের বিভিন্ন পর্যায়েও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিসহ নেতাদের কঠোর অবস্থানও দেখা যাচ্ছে। প্রতিফলন দেখা গেছে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন, ফেনী, মাগুরা, চাঁদপুর ও বরিশালে। যেখানে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কিছু ক্ষেত্রে অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার, একই সঙ্গে বিএনপি দলগতভাবে যে পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা ইতিবাচক। এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।
আবার ভিন্ন চিত্রও রয়েছে। অপরাধ সুস্পষ্ট হলেও কয়েকটি ঘটনায় পুলিশ নির্লিপ্ত ভূমিকা পালন করেছে। হাটের টেন্ডারের দরপত্র দাখিল করা নিয়ে পাবনার চাটমোহর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিবুর রহমানের ওপর হামলা চালিয়েছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে পুলিশের উপস্থিতিতে তাকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ কাউকে আইনের আওতায় আনার খবর পাওয়া যায়নি।
চাঁদা না পেয়ে নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে বাছেদ মিয়া নামের এক প্রবাসীর নির্মাণাধীন ভবনের মালপত্র লুট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রূপগঞ্জের ভুলতা ইউনিয়নের আউখাব এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা মাসুদুর রহমান মাসুদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি। এখানেও ভুক্তভোগীরা প্রতিকার পাননি বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, জনগণ তা যেন বাস্তবে দেখতে পায়। জানা যাচ্ছে, প্রশাসনকে বলা হয়েছে সরকারি দল বলতে কোনো কথা নেই। কেউ অপরাধ করলে সঙ্গে সঙ্গে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। গ্রেপ্তারের পর কেউ তদবির করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এটা শুধু নির্দেশনায় সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবায়ন হলে সরকারি দলের আলখেল্লা গায়ে জড়িয়ে দুর্বিনীত আচরণ ও যা খুশি তা করার প্রবণতা কমে আসবে।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মনে শান্তি-নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে বিএনপি সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। দলীয় বা রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তি অথবা জোরজবরদস্তি নয়, আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা।’
সাম্প্রতিক সময়ে কিংবা তারও আগে ঘটে যাওয়া বর্বরতা ও নৃশংসতার ঘটনাগুলোর দিকে নজর দিলে দেখা যাবে, মানুষরূপী হায়েনাদের শক্তির উৎস ক্ষমতার রাজনীতি-সংশ্লিষ্টতা। যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, সেই সরকারের হয়ে তারা সমাজে প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তার করে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির মাধ্যমে বেপরোয়া জীবনে অভ্যস্ত হওয়ার পরই নারীর প্রতি তাদের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে। হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে তারা শিশু, কিশোরী কিংবা বয়স্ক কাউকেই রেহাই দেয় না। চার সন্তানের জননীও পশুতুল্যদের কবল থেকে রক্ষা পায় না। এদের থামাতে হলে তাদের ক্ষমতা ও পৃষ্ঠপোষকতার গোড়ায় আঘাত হানতে হবে। দুঃসাহসের শেকড় উপড়ে ফেলতে হবে। তা না হলে সরকারের সব ইতিবাচক কাজই গুটিকতক দুর্বৃত্তের হিংস্রতায় কালো ছায়ায় ঢাকা পড়ে যাবে।
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট