নিজস্ব প্রতিবেদক : সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের অধীন বিভিন্ন সড়ক বিভাগে প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার মহাসড়ক নাজুক অবস্থায় রয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণ ও সংস্কার কাজ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও নিয়ম না মেনে অতিরিক্ত ভার বহনকারী যানবাহন চলাচলে মহাসড়কের এ অবস্থা হয়েছে। ফলে আসন্ন ঈদযাত্রায় যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এসব ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের জন্য দুই হাজার ৯০৭ কোটি ২১ লাখ টাকার বিশেষ বরাদ্দ চেয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর।
দুই মাস আগে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে এই বরাদ্দ চাওয়া হয়।
বিভিন্ন স্থানে ঈদের আগে সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। আবার কোথাও পর্যাপ্ত বরাদ্দের অভাব রয়েছে বলে জানা গেছে।
সওজ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ভাঙাচোরা মহাসড়ক সবচেয়ে বেশি রাজশাহী অঞ্চলে, ২২৯ কিলোমিটার।
এ ছাড়া রংপুরে ১৯৪ কিলোমিটার, চট্টগ্রামে ১৮৬ কিলোমিটার, কুমিল্লায় ১৬৭ কিলোমিটার, ময়মনসিংহে ১৫০ কিলোমিটার, সিলেটে ১৪৮ কিলোমিটার, ঢাকায় ১৪৩ কিলোমিটার, বরিশালে ১১৯ কিলোমিটার, গোপালগঞ্জে ৭০ কিলোমিটার এবং খুলনায় ৬৮ কিলোমিটার।
সওজ জানায়, সারা দেশে তাদের আওতায় মোট ২২ হাজার ৭১৯ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় মহাসড়ক চার হাজার ২৯৩ কিলোমিটার, আঞ্চলিক মহাসড়ক পাঁচ হাজার ৩৯ কিলোমিটার এবং জেলা মহাসড়ক ১৩ হাজার ৩৮৫ কিলোমিটার। ভাঙাচোরা সড়ক-মহাসড়ক দ্রুত সংস্কার করা না হলে আসন্ন ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা চরম ভোগান্তিতে পড়বে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা।
পরিবহন মালিকদের মতে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে হলে এখনই ভাঙাচোরা সড়ক-মহাসড়ক সংস্কার শেষ করতে হবে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম বলেন, ‘এই সমস্যা শুধু ঈদযাত্রার নয়, বরং সারা বছরই যাত্রী পরিবহনে বড় ধরনের দুর্ভোগ তৈরি করছে।’ তাঁর ভাষায়, ‘ভাঙাচোরা রাস্তায় গাড়ি চলাচলে প্রচণ্ড জার্কিং হয়, যাত্রীদের কষ্ট হয়, অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটে। আবার এসব রাস্তায় প্রপার স্পিডে গাড়ি চালানো যায় না। ফলে ওভারটেক করতে গিয়ে সমস্যা হয়, যানজট আরো দীর্ঘ হয়।’
তিনি বলেন, ঈদের সময় যাত্রীর চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এখনই যদি এসব ভাঙাচোরা অংশ ঠিক না করা হয়, তাহলে ঈদের সময় অতিরিক্ত গাড়ি চলাচলের কারণে লম্বা যানজট তৈরি হবে এবং মানুষের ভোগান্তি বহুগুণ বাড়বে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘ভাঙাচোরা সড়ক-মহাসড়কে যান চলাচল সরাসরি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। অসমতল রাস্তায় গাড়ির ব্রেকিং ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়, ফলে হঠাৎ ব্রেক বা ওভারটেকিংয়ের সময় মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ঈদের সময়ে যখন যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়, তখন মহাসড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।’ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেছেন, মহাসড়ক সংস্কারকাজ ঈদযাত্রার আগেই শুরু করা হয়েছে। মহাসড়কের দুরবস্থা নেই।