স্পোর্টস ডেস্ক : পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) ২০২৬ সালে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের হয়ে খেলবেন না জিম্বাবুয়ের পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি । ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগের দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের সঙ্গে তার চুক্তি হওয়ায় পিএসএল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, মুজারাবানি ইতিমধ্যে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডকে তার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। শুক্রবার কলকাতা নাইট রাইডার্সও এই পেসারকে দলে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
কলকাতা মূলত মুজারাবানিকে দলে নিয়েছে বাংলাদেশের বাঁহাতি তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের জায়গায়। ২০২৬ সালের ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগের নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ ভারতীয় রুপিতে মুস্তাফিজুর রহমানকে কিনেছিল কলকাতা। তবে গত ডিসেম্বরে দেশটির ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের ‘দাবির মুখে’ তাকে ছেড়ে দিতে দলটিকে নির্দেশ দেয় ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিসিসিআই।
পরবর্তীতে মুস্তাফিজুর রহমান পাকিস্তান সুপার লিগের দল লাহোর কালান্দার্সের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন।
উল্লেখ্য, এবারের পাকিস্তান সুপার লিগ শুরু হবে ২৬ মার্চ, যা ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগ শুরুর দুই দিন আগে।
মুজারাবানি এর আগে পাকিস্তান সুপার লিগের শিরোপা জিতেছিলেন মুলতান সুলতানসের হয়ে। যদিও ১১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নিলামে তিনি দল পাননি। পরে ইসলামাবাদ ইউনাইটেড ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার শামার জোসেফকে ছেড়ে দেওয়ার পর সরাসরি চুক্তিতে মুজারাবানিকে দলে নেয়।
টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগ ও পাকিস্তান সুপার লিগ একই সময়ে হওয়ায় খেলোয়াড়দের নিয়ে টানাপোড়েন বাড়ছে। গত বছরও এমন ঘটনা ঘটেছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার অলরাউন্ডার করবিন বশ পাকিস্তান সুপার লিগে পেশাওয়ার জালমির হয়ে নির্বাচিত হলেও পরে ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের হয়ে ইনজুরি বদলি হিসেবে যোগ দেন। এ কারণে পাকিস্তান সুপার লিগ কর্তৃপক্ষ তাকে এক মৌসুমের নিষেধাজ্ঞা দেয়।
মুজারাবানির ক্ষেত্রেও একই ধরনের শাস্তি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে পাকিস্তান সুপার লিগ কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে।
১ কোটি ১০ লাখ রুপিতে মুজারাবানিকে দলে ভিড়িয়েছিল ইসলামবাদ ইউনাইটেড। হঠাত তার এমন সিদ্ধান্তের কড়া প্রতিক্রিয়া জানাতে আইনি পথে হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছে পিসিবি।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছিলেন ব্লেসিং মুজারাবানি। তার দল জিম্বাবুয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সুপার এইটে ওঠে। ছয় ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিদের তালিকায় শীর্ষে ওঠার খুব কাছাকাছি ছিলেন তিনি। এর মধ্যে চারটি উইকেট নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বড় জয়ে।