মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৯ জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

ঈদের আগে মাংসের বাজারে আগুন: সোনালী ৪০০, ব্রয়লার ২৪০, গরু ৮৫০

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ব্যস্ত হয়ে উঠছে নগরীর কাঁচাবাজার। কিন্তু এই উৎসবমুখরতার মাঝেই ক্রেতাদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে মাংসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। গরু, ব্রয়লার ও সোনালী—সব ধরনের মাংসের দামই একসঙ্গে বাড়ায় ঈদের কেনাকাটায় চাপ বেড়েছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গরুর মাংস এখন প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। অনেক বিক্রেতা সরাসরি ৮৫০ টাকাই চাচ্ছেন, আবার কোথাও কোথাও সামান্য কম দামে বিক্রি হলেও তা খুবই সীমিত।
অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের প্রধান ভরসা ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪০ টাকায়। সোনালী মুরগির বাজার আরও বেশি উত্তপ্ত—প্রতি কেজি ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে ৪০০ টাকাই গড় দাম হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
বাজারে আসা ক্রেতারা বলছেন, ঈদের আগে প্রতি বছরই মাংসের দাম বাড়ে, তবে এবার বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি। তাদের অভিযোগ, বাড়তি চাহিদার সুযোগ নিয়েই ব্যবসায়ীরা ধাপে ধাপে দাম বাড়াচ্ছেন। কেউ কেউ মনে করেন, বাজারে কার্যকর নজরদারি থাকলে এই পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতো।
মুগদা এলাকার এক ক্রেতা জানান, ঈদের জন্য আগেভাগে মাংস কিনে রাখার পরিকল্পনা থাকলেও দাম শুনে সেটি আর সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে প্রয়োজনের তুলনায় কম কিনতে হচ্ছে। একই চিত্র মুরগির বাজারেও—যেখানে আগে সস্তা বিকল্প হিসেবে ব্রয়লার মুরগি বেছে নেওয়া হতো, এখন সেটিও অনেকের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
বিক্রেতাদের ভাষ্য ভিন্ন। তাদের দাবি, খামার পর্যায়ে গরু ও মুরগির দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও প্রভাব পড়েছে। গরু কিনতে বেশি খরচ হওয়ায় কম দামে মাংস বিক্রি করলে লোকসানের মুখে পড়তে হবে। একইভাবে, মুরগির খাবার, পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ বৃদ্ধির কারণেও দাম বাড়াতে হচ্ছে।
সোনালী মুরগির ক্ষেত্রে চাহিদা বেশি থাকায় দাম আরও দ্রুত বাড়ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, ক্রেতারা স্বাদ ও মানের কারণে সোনালী মুরগির দিকে ঝুঁকছেন, ফলে এই সেগমেন্টে চাপ আরও বেশি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, উৎসবকেন্দ্রিক এই মূল্যবৃদ্ধি নতুন কিছু নয়, তবে তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর বাজার তদারকি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা জরুরি। তা না হলে ঈদের আনন্দের সঙ্গে বাড়তি খরচের চাপ মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য উৎসবের স্বাদ অনেকটাই ফিকে হয়ে যেতে পারে।