নিজস্ব প্রতিবেদক : ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের উত্তর প্লাজা ও জিয়া উদ্যানে লক্ষাধিক দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
রোববার (২২ মার্চ) সকাল থেকে এ অঞ্চলে ভিড় করতে শুরু করেন দর্শনার্থীরা। এরপর দুপুর ২টার পর ভ্রমণ প্রিয় মানুষের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর কোলাহলপূর্ণ জীবন থেকে একটু প্রশান্তি খুঁজে পেতে পরিবার-পরিজন নিয়ে জাতীয় সংসদ ভবন ও জিয়া উদ্যানে সকাল থেকে ভিড় করছেন মানুষ। ভ্রমণ প্রিয়সী মানুষ দলে দলে অংশ দিচ্ছেন। কেউ কেউ সকালে এসে বিকেল পর্যন্ত ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আবার অনেকে দুপুরের খাবার খেয়ে আসছেন। এতে দুপুর ৩টার দিকে এই অঞ্চলে লক্ষাধিক দর্শনার্থীর উপস্থিতি দেখা যায়।
এসব এলাকার খোলা জায়গায় কেউ বসে গল্প করছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ ফুচকা খাচ্ছেন। সবুজে ঘেরা জিয়া উদ্যানে অনেকে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাচ্ছেন। প্রিয়জনের সঙ্গে গল্প-আড্ডায় সময় যে দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে- সেদিকে খেয়াল করছেন না অনেকেই।
রাজধানীর মগবাজার থেকে জিয়া উদ্যানে পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে এসেছেন সুমাইয়া। তিনি জানান, সকালে এখানে এসেছি। অনেক বড় খোলা জায়গা। ঘুরে অনেকে মজা পাচ্ছি। সন্ধ্যা পর্যন্ত এখানেই ঘুরাঘুরি করতে চাই।
বাসা থেকে বক্সে করে দুপুরের খাবার নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছেন কেউ কেউ। জিয়া উদ্যানের বড় কোনো গাছের নিচে চাদর বিছিয়ে দুপুরের খাবার সেরে নিয়েছেন তারা। নির্ধারিত বসার বেঞ্চগুলোতে জায়গা না পেয়ে অনেকেই আবার ঘাসের ওপরে বসে দীর্ঘ আড্ডায় মেতেছেন।
উদ্যানের ভেতরে ক্যামেরা হাতে টাকার বিনিময়ে ছবি তুলে দিতে ঘুরে বেড়াতে দেখা বেশ কয়েকজন যুবককে। তাদের একজনের নাম ওমর ফারুক। তিনি জানান, প্রতিটি ছবি সর্বনিম্ন ৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ টাকায় তুলে দিচ্ছেন। কমপক্ষে ১০টি ছবি নেওয়ার শর্তে ছবি তুলে দিচ্ছেন। ডিএসএলআর ক্যামেরায় ধারণকৃত ছবি হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমেইল অ্যাকাউন্টে কাস্টমারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। স্বামী-স্ত্রী ও প্রেমিক যুগলদের ছবি তুলতে বেশি আগ্রহ দেখা গেছে। অনেকে আবার পরিবারের সবাই মিলে যৌথ ছবি তুলতেও আসেন।
এদিকে, জিয়া উদ্যানে ঘুরতে আসা কাউকেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তার স্ত্রী দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে দেখা যায়নি। তবে ঈদের এই আনন্দঘন মুহূর্তে অনেককেই জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কবরের পাশে গিয়ে ‘সেলফি বন্দী’ হতে দেখা গেছে। অনেকে অবশ্য জিয়া উদ্যানের মূল ফটক সামনে থেকে জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার ছবিসংবলিত ব্যাচ কিনে তা বুকে লাগিয়ে উদ্যানের ভেতরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।