বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৬ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২০ শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন আরিফ খান

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন দেশটির বিহারের সাবেক গভর্নর আরিফ মোহাম্মদ খান। তিনি বর্তমান হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার উত্তরসূরি হচ্ছেন।

জানা গেছে, প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে পাঠানো হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির পরে সেখানকার দায়িত্ব ভারতের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ভারতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ এক খেলোয়াড় আরিফ মোহাম্মদ খান। রাজনীতিতে প্রবেশ করেন ছাত্র থাকার সময়ে। কংগ্রেসসহ একাধিক সরকারের মন্ত্রী হয়েছেন। তিনি নব্বই দশকের আগে কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী ছিলেন। সবশেষ যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। বর্তমানে বিহারের গভর্নর। ভারতের রাষ্ট্রপতি হওয়ার কথা তার।

আরিফ খান এর আগে ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কেরালার রাজ্যপাল ছিলেন। তিনি ১৯৫১ সালের ১৮ নভেম্বর বুলন্দশহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দিল্লির জামিয়া মিলিয়া স্কুল, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় এবং লখনৌ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিয়া কলেজে পড়াশোনা করেন। বন্দনাগীতি ‘বন্দে মাতরম’ উর্দুতে অনুবাদ করেছিলেন তিনি।

ভারতে মুসলিমদের মধ্যে সবসময় সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন আরিফ মোহাম্মদ খান। তিন তালাকের বিরোধিতাকারী এ রাজনীতিক ২০২২ সালে কর্ণাটকে হিজাব বিতর্কের সময় সেখানকার হাই কোর্টের রায়কে স্বাগত জানিয়েছিলেন। ওই রায়ে বলা হয়েছিল, ইসলাম অনুযায়ী হিজাব অপরিহার্য পোশাক নয়।

সেই আরিফ খানকেই এবার ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে হাইকমিশনার করে। ভারত সরকার এর আগে এত বড় প্রোফাইলের কাউকে কখনো রাষ্ট্রদূত করেছে কি না, তা নিয়ে রীতিমতো গবেষণা চলছে। আর বাংলাদেশেই কেন এত বড় ঝানু রাজনীতিককে পাঠানো হচ্ছে?

আরিফ খান বাংলাদেশে হাইকমিশনার হয়ে এলে তার পদমর্যাদা কী হবে? সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তাকে হয়ত পাঠানো হবে ভারতের কেন্দ্রীয় পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে। এর কম দেওয়াটা তার ক্ষেত্রে মানায় না। তার মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিবিদকে কেন বাংলাদেশে হাইকমিশনার করে পাঠানো হচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা চলছে বাংলাদেশ ও ভারতে।