শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৭ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২১ শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

সরকারের কাছে সব অধ্যাদেশের ব্যাখ্যা চান মাসুদ কামাল

নিজস্ব প্রতিবেদক : অন্তবর্তীকালীন সরকারের জারি করে রেখে যাওয়া ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে বর্তমান সরকারের হাতে রহিত হওয়া অধ্যাদেশসহ সব অধ্যাদেশের বর্তমান সরকারের কাছে সঠিক ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছেন সাংবাদিক ও কলামিস্ট মাসুদ কামাল।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সাংবাদিক তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হল রুমে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) আয়োজিত এক গোল টেবিল আলোচনায় মাসুদ কামাল এ জবাব চান।

মাসুদ কামাল বলেন, অন্তবর্তীকালীন সরকার ১৩৩টা অধ্যাদেশ জারি করেছিল। তার মধ্যে এ সরকার ৯৮টা হুবহু মেনে নিয়েছে, ১৫টি একটু পরিবর্তন করা হবে বলেছে, ১৬টি বিল আকারে উত্থাপন করা হবে না এবং চারটি বাতিল করেছে। সরকারকে রহিতকরণ চারটিসহ সব অধ্যাদেশের ব্যাখ্যা দিতে হবে।

মাসুদ কামাল বলেন, বাতিল হওয়া চারটা অধ্যাদেশের মধ্যে দুটো বিচার ও সুযোগের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আরেকটা হলো বিচার বিভাগের প্রশাসনের স্বাধীনতা। এই দুটো কিন্তু ওই চারটার মধ্যে দুইটাকে রহিত করা হয়েছে। যে ১৪ জনের একটা কমিটি করা হয়েছিল বাছাই কমিটি, তারা এগুলো রহিত করেছে। কারা রহিত করেছে। বাছাই কমিটিতে কারা আপত্তি করছিল। বাছাই কমিটির তিনজন জামায়াতে ইসলামীর সদস্য ছিলেন এবং জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরাই এই দুইটার ব্যাপারে আপত্তি করেছেন।

এই সাংবাদিক বলেন, রহিত করলেই যে খারাপ হয়ে গেল আমি কিন্তু তা মনে করি না। হয়তো পরিবর্তন করে অন্য কিছু করবে। আবার যারা সংশোধন করবে সেটাও হতে পারে। যেগুলো হুবহু পাশ করছে সেগুলো নিয়ে আমার আপত্তি থাকতে পারে। কিন্তু সেগুলি কি ঠিক ছিল? আমি যদি সবগুলো অধ্যাদেশ হুবহু পাশ চাই তাহলে আমাকে মেনে নিতে হবে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যা করেছে সব ঠিকঠাক করেছে। আমি তো সেটা মনে করি না। একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে জানতে চাই- আপনারা (বিএনপি সরকার) কেন এগুলো রহিত করলেন? এই ব্যাখ্যাটা একটু আমাদেরকে দেন।

বিএনপির উদ্দেশে মাসুদ কামাল বলেন, আপনারা এসে ভোটটা চান। ভাই ভোটটা আমারে দিয়েন। ভোটটা দিয়ে আপনাদের সংসদে পাঠাইছি, তাহলে একটু দয়া করে আপনারা আমাদের জানাবেন- কেন অধ্যাদেশগুলো রহিত করলেন? কেন এটাকে পরে আলোচনা করবেন, কেন এখন সংশোধন করবেন? আর কেন ৯৮টির কিছুই করবেন না? ব্যাখ্যাটা কী?

মাসুদ কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচিত হওয়ার পর সরকারি গাড়ি, তেল, সুযোগ-সুবিধা নেবেন না বলে যে ঘোষণা দিয়েছেন তাতে তার মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা প্রভাবিত হয়নি। উল্টো তারা তাকে প্রভাবিত করেছেন। তারেক রহমানের সঙ্গে আনফরচুনেটলি আমার দুয়েকবার দেখা হয়েছে। তখন আমার কাছে মনে হয়েছিল যে ওনাকে কেউ প্রভাবিত করতে পারবে না। আমি বলেওছিলাম, কিন্তু দেখলাম উল্টোটা। যারা এখানে আছে এরাই ওনাকে প্রভাবিত করতেছে। উনি প্রভাবিত করতে পারেন নাই।

আয়োজক সংগঠন এইচআরএসএসের সভাপতি শাহজাদা আল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, অ্যাডভোকেট শিশির মনির, পাহাড়ী জনগোষ্টির মুখপাত্র দিপয়ন চাকমা, জুলাই যোদ্ধা আহমেদ সালমান, নাগরিক উদ্যোগের জাকির হোসেন, মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের পরিচালক এএসএম নাসির উদ্দীন এলান, এনসিপির যুগ্ম সম্পাদক সামান্তা শারমিন, ব্যারিস্টার ইমরান আব্দুল্লাহ সিদ্দিকীসহ গুম পরিবারের শিকার স্বজনরা।