মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৮ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৩ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ইসির কাছে মনোনয়ন জমা দিচ্ছেন বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করছেন বিএনপি ও জামায়াত জোটের প্রার্থীরা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টার পর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন প্রার্থীরা।

বিএনপি জোট থেকে ৩৬ ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১দলীয় নির্বাচনি ঐক্য থেকে ১৩ জন মনোনয়নপত্র জামা দিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আজ বিকেল পর্যন্ত প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন।

ইসি জানিয়েছে, জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র ২২ ও ২৩ এপ্রিল যাচাই-বাছাই করা হবে। বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ২৬ এপ্রিল এবং আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল। এরপর ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, সাধারণ নির্বাচনে প্রাপ্ত আসনের আনুপাতিক হারে রাজনৈতিক দলগুলো সংরক্ষিত নারী আসন পাবে। সে অনুযায়ী, ৫০টি আসনের মধ্যে বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জোট একটি আসন পাবে।

বিএনপি থেকে নারী আসনে একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার স্ত্রী ও সন্তানেরা মনোনয়ন পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পুত্রবধূ নিপুণ রায় চৌধুরী, চট্টগ্রামের সাবেক এমপি ও হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা, দলের যুগ্ম মহাসচিব এবং নরসিংদী-১ আসনের এমপি খায়রুল কবির খোকনের স্ত্রী ও মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিরীন সুলতানা, স্বেচ্ছাসেবক দলের মরহুম সভাপতি শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হুসাইন।

এদিকে বিএনপির প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর সমালোচনা শুরু হয়েছে সুবর্ণা সিকদারকে (ঠাকুর) নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। শেখ হাসিনার প্রশংসা করে দেওয়া তার বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুবর্ণা ঠাকুর বলেন, আওয়ামী লীগের কমিটিতে আমার সম্মতিতে নাম ছিল না। অনুমতি ছাড়াই কমিটিতে পদ দেওয়া হয়েছিল। আওয়ামী লীগের কোনো রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলাম না।

বিএনপির প্রার্থী হলেন যারা :

সেলিমা রহমান: বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি এর আগে একবার সংসদ সদস্য ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির জন্য পরিচিত তিনি। ২০০১-০৬ মেয়াদে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন।

শিরীন সুলতানা: কেন্দ্রীয় কমিটির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরীন সুলতানা মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি নরসিংদী-১ আসনের এমপি খায়রুল কবির খোকনের সহধর্মিণী। ঢাকা মহানগর মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবেও পরিচিত তিনি।

রাশেদা বেগম হীরা: বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণবিষয়ক সদস্য রাশেদা বেগম হীরা। এর আগে তিনি দুবার সংসদ সদস্য ছিলেন। কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক ও উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। চাঁদপুরের রামপুর ইউনিয়নের আলগী গ্রামে তার বাড়ি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তিনি।

রেহানা আক্তার রানু: বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক রেহানা আক্তার রানু বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন। ফেনীতে জন্ম নেওয়া রানু এর আগেও সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন।

নেওয়াজ হালিমা আরলী: বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক এবং জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি নেওয়াজ হালিমা আরলী মনোনয়ন পেয়েছেন। এর আগে তিনি একবার সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেয়ে এমপি ছিলেন। তিনি মাগুরার সন্তান।

ফরিদা ইয়াসমিন: বিএনপির নারী নেত্রী মোসা. ফরিদা ইয়াসমিন এবার সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন।

বিলকিস ইসলাম: সংরক্ষিত নারী আসনে নীলফামারী জেলা থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন বিলকিস ইসলাম।

শাকিলা ফারজানা: সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ প্রয়াত সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা। সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম বিএনপির মনোনয়নে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শাকিলা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএম সম্পন্ন করেন এবং পরে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আবার এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৯ সালে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন ।

হেলেন জেরিন খান: মাদারীপুর জেলার সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন হেলেন জেরিন খান। এর আগে তিনি ২০০১ সালে একই সংসদীয় আসন থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়া তিনি মহিলা দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

নিলোফার চৌধুরী মনি: দলের মনোনয়ন পেয়েছেন নিলোফার চৌধুরী মনি। বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সহসম্পাদক এবং জাতীয়তাবাদী তরুণ প্রজন্ম দলের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। নবম জাতীয় সংসদেও সংরক্ষিত সংসদ সদস্য ছিলেন মনি।

নিপুণ রায় চৌধুরী: মনোনয়ন পেয়েছেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী। নিপুণের এই মনোনয়নের ফলে একই পরিবার থেকে তিনজনের সংসদে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিতের পথে। তার বাবা নিতাই রায় চৌধুরী মাগুরা-২ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন এবং বর্তমানে সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার শ্বশুর বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ঢাকা-৩ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।

জীবা আমিনা খান: বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন জীবা আমিনা খান। তিনি দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সহসভাপতি এবং ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সক্রিয় সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মাহমুদা হাবীবা: রাজশাহীর মেয়ে মাহমুদা হাবীবা বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। মাহমুদা হাবীবা বিএনপির মিডিয়া সেল ও সহযোগী সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী সক্রিয় রাজনীতিক। যিনি দলীয় প্রচার, দলীয় নীতি উপস্থাপন ও গণমাধ্যমে প্রতিনিধিত্বে ভূমিকা রাখছেন। তিনি নারী উদ্যোক্তা হিসেবেও পরিচিত।

সাবিরা সুলতানা: যশোর জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ব্যবসায়ী নাজমুল ইসলাম ২০১১ সালে ঢাকা থেকে অপহরণের পর নিহত হন। স্বামীর মৃত্যুর পর গৃহিণী থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় হন সাবিরা সুলতানা মুন্নী। তিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন। সেখানে পরাজয়ের পর সংরক্ষিত নারী আসনে তাকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি।

সানসিলা জেবরিন: সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। এর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হলেও জামায়াতের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। এবার তিনি বিএনপি থেকে সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন পেয়েছেন।

সানজিদা ইসলাম তুলি: গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গঠিত প্ল্যাটফর্ম ‘মায়ের ডাক’-এর প্রধান সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি ঢাকা-১৪ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। এবার তিনি সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি গুম হওয়া বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের ছোট বোন।

সুলতানা আহমেদ: মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নির্যাতিত হয়েছেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সাভার থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।

ফাহমিদা হক: সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ছেন ফাহমিদা হক। চ্যানেল আইয়ের ‘তৃতীয় মাত্রা’র উপস্থাপক ও পরিচালক জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী তিনি। জিল্লুর রহমান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) নির্বাহী পরিচালক আর ফাহমিদা হক পরিচালনা পর্ষদের সদস্য বা বোর্ড অব ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্বরত। তিনি বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক।

আন্না মিনজ: নাটোর-নওগাঁ সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন খ্রিষ্টান ও নৃগোষ্ঠী নেত্রী আন্না মিনজ। তিনি নাটোরের বড়াইগ্রামের জোনাইলের কৃতী সন্তান বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্মবিষয়ক সহ-সম্পাদক অ্যাডভোকেট জন গমেজের সহধর্মিণী।

সুবর্ণা সিকদার ঠাকুর: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর সুবর্ণা সিকদার (ঠাকুর)। এলাকাবাসীর দাবি, আলোচিত সুবর্ণা ঠাকুর গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক। বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দলের দুঃসময়ে যারা মাঠে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, মামলা-হামলা সহ্য করেছেন, তাদের মূল্যায়ন না করে অন্য দল থেকে আসা একজন পদধারী নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়ায় তারা হতাশ ও ক্ষুব্ধ।

শামীম আরা বেগম স্বপ্না : কক্সবাজারের সংরক্ষিত নারী আসনে দলটির মনোনয়ন পেয়েছেন অ্যাডভোকেট শামীম আরা বেগম স্বপ্না। দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। অ্যাডভোকেট স্বপ্না ১৯৮২ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতিতে সক্রিয় হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময়।

শাম্মী আক্তার: সিলেটের চুনারুঘাটের তৃণমূল থেকে উঠে আসা বিএনপি নেত্রী শাম্মী আক্তার সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকারবিষয়ক সহ-সম্পাদক এবং দলের মিডিয়া সেলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এর আগে তিনি হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নবম জাতীয় সংসদেও তিনি সংরক্ষিত আসনের সদস্য হিসেবে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন।

ফেরদৌসী আলম: বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন ফেরদৌসী আলম।

বীথিকা বিনতে হোসাইন: বিএনপির প্রয়াত নেতা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারীর সহধর্মিণী ও অর্পণ আলোক সংঘের চেয়ারম্যান বীথিকা বিনতে হোসাইন সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকা বীথিকা বিনতে হোসাইনের স্বামী শফিউল বারী বাবুর আদর্শ অনুসরণ করে মাঠপর্যায়ে কাজ করে আসছেন। বিশেষ করে রামগতি ও কমলনগর অঞ্চলে দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেছেন।

বীথিকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল থেকে রাজনীতিতে উঠে আসা একজন নেত্রী। পাশাপাশি তিনি ‘অর্পণ আলোক’ নামে একটি মানবিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে নির্যাতিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

সুরাইয়া জেরিন রনি: বগুড়া জেলা থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন সুরাইয়া জেরিন রনি। সুরাইয়া জেরিন রনি বগুড়া জেলা মহিলা দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় ২০০৩ সালে গাবতলী কলেজে প্রথম বর্ষে পড়ার সময় ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে।

মানসুরা আক্তার: সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেত্রী মানসুরা আক্তার। তিনি বর্তমানে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১২-১৩ সেশনের শিক্ষার্থী। ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে মানসুরা আক্তার দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির হয়ে রাজপথে সক্রিয়। আওয়ামী সরকার আমলে বিভিন্ন সময় মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন তিনি।

ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী: মৌলভীবাজারের বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার সন্তান ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন লাভ করেছেন। মৌলভীবাজার-১ সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মরহুম অ্যাডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরীর সুযোগ্য কন্যা।

মমতাজ আলো: সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার শিলই ইউনিয়নের নারী নেত্রী মমতাজ আলো। তিনি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক এবং ফ্রান্স মহিলা দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ফাহিমা নাসরিন: ফাহিমা নাসরিন মুন্নী বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ফাহিমা নাসরিন মুন্নি বিগত বিএনপি সরকারের সময় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আরিফা সুলতানা : সংরক্ষিত নারী আসনে (পাবনা-সিরাজগঞ্জ) থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন পাবনার চাটমোহর উপজেলার সন্তান নারী নেত্রী অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা। রুমা ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। এছাড়া তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সানজিদা ইয়াসমিন: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানজিদা ইয়াসমিন তুলি। তিনি ইডেন কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব এবং ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

নাদিয়া পাঠান পাপন: জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার মেয়ে নাদিয়া পাঠান পাপন। তিনি চান্দুরা গ্রামের মরহুম আনোয়ার হোসেন ও বিজয়নগর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য সৈয়দা নাখলু আক্তারের মেয়ে।

শওকত আরা আক্তার : শওকত আরা আক্তার হীরা সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন।

মাধবী মারমা : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা। তিনি বান্দরবান জেলা পরিষদেরও একজন সদস্য।

সেলিনা সুলতানা: ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী সেলিনা সুলতানা বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন। তার বাড়ি নরসিংদীতে।

রেজেকা সুলতানা : রংপুর মহানগর মহিলা দলের সভাপতি এবং মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সী বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন।

জামায়াতে ইসলামী থেকে মনোনীত প্রার্থীরা হলেন : দলের কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, সহকারী সেক্রেটারি মারজিয়া বেগম, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাবিকুন নাহার মুন্নী, মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় প্রচার ও সাহিত্য সংস্কৃতি বিভাগীয় সেক্রেটারি নাজমুন নাহার নীলু, কেন্দ্রীয় ইউনিট সদস্য ও সিলেট মহানগরীর সাবেক সেক্রেটারি অধ্যাপক মাহফুজা হান্নান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও বগুড়া অঞ্চল পরিচালিকা সাজেদা সামাদ, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সেক্রেটারি শামছুন্নাহার বেগম এবং নারী অধিকার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ। জামায়াতের পক্ষ থেকে আরো প্রার্থী হয়েছেন জুলাই শহীদ জাবির ইব্রাহীমের মা রোকেয়া বেগম।

এছাড়া এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহবায়ক মনিরা শারমিন ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মহিলা বিভাগের (মহিলা মজলিস) সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম মনোনয়ন পেয়েছেন।

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১দলীয় নির্বাচনি ঐক্য থেকে এখন পর্যন্ত ১২ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। জামা দেওয়ার বাকী রয়েছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান।