আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি : বরগুনার তালতলীতে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও সদস্য মো. ফজলুল হক বাচ্চুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ছয় ইউপি সদস্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
বুধবার দুপুরে তারা এ অভিযোগ জমা দেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নে সরকারি নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৭৬৫ জন হলেও প্যানেল চেয়ারম্যান ফজলুল হক বাচ্চু তালিকায় আরো ৭১ জন ভুয়া জেলের নাম যুক্ত করে মোট ৮৩৬ জনের তালিকা তৈরি করে তা প্রশাসনের কাছে জমা দেন।
জাটকা আহরণ থেকে বিরত থাকাকালীন সময় জেলেদের জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে প্রতি মাসে সরকার ৪০ কেজি করে ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেয়। সে অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে প্রতিজন জেলে মোট ৮০ কেজি করে চাল বরাদ্দ পায়। গত ১০ এপ্রিল ওই চাল জেলেদের মাঝে বিতরণ করা হয়।
তালতলী খাদ্যগুদামের একটি সূত্র জানায়, ৮৩৬ জন জেলের নামে মোট ৬৬ দশমিক ৮৮০ টন চাল গুদাম থেকে ছাড় করা হয়েছে।
এ ঘটনায় চাল আত্মসাতের অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন একই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. রেদওয়ান সরদার, খলিলুর রহমান, পিযুষ কান্তি হাওলাদার, পুলুকেশ হাওলাদার, মনির গাজী ও সংরক্ষিত নারী সদস্য মাহমুদা আক্তার।
অভিযোগকারী ইউপি সদস্য মো. রেদওয়ান সরদার বলেন, কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নে সরকারীভাবে নিবন্ধিত মোট ৭৬৫ জন জেলে রয়েছেন। তাদের জন্য সরকার ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে ৬১ দশমিক ২০০ টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু প্যানেল চেয়ারম্যান ইউপি সদস্য ফজলুল হক বাচ্চু ৭১ জন ভুয়া জেলের নামের তালিকা তৈরি করে বরাদ্দকৃত চাল থেকে ৫ দশমিক ৬৮০ টন চাল আত্মসাৎ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্যানেল চেয়ারম্যান ইউপি সদস্য মো. ফজলুল হক বাচ্চু মুঠোফোনে চাল আত্মসাৎতের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘৮৩৬ জন জেলের নামে বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলন করে তা জেলেদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। আমার মানহানি করতেই আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে।’
তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ছয় ইউপি সদস্যদের স্বাক্ষর করা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’