নিজস্ব প্রতিবেদক : আল্লামা ইকবালের ‘সার্বভৌম উম্মাহ’ ধারণা মূলত একটি নৈতিক-রাজনৈতিক প্রকল্প, যা ব্যক্তির আত্মচেতনা (খুদি), সামাজিক ন্যায় এবং সভ্যতাগত ঐক্য এর মাধ্যমে আধিপত্যবাদকে চ্যালেঞ্জ করে। এটি কোনো কাল্পনিক ধারণা বা ইউটোপিয়া নয়। বরং একটি বুদ্ধিবৃত্তিক আহ্বান। যেখানে আহ্বান জানানো হয়েছে, ‘নিজেকে জানো, নিজেকে গড়ে তোলো, এবং ন্যায়ভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা নির্মাণ করো।’
বৃহস্পতিবার বিকালে মহাকবি, দার্শনিক ও রাষ্ট্রচিন্তক আল্লামা ইকবালের ৮৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) আয়োজিত ‘সার্বভৌম উম্মাহ : আধিপত্যবাদ মোকাবিলায় আল্লামা ইকবালের চিন্তা ও দর্শন’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রভাষক মীম মিজান। আলোচনায় অংশ নেন রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মাহফুজ পারভেজ এবং দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) ভিপি ইব্রাহীম রনি। সঞ্চালনা করেন চাকসুর সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক হারেস মাতাব্বর।
বক্তারা বলেন, ইকবালের মতে, আধিপত্যবাদ প্রথমে মানুষের মনের ওপর কর্তৃত্ব স্থাপন করে। তাই প্রতিরোধও শুরু হতে হবে ‘খুদি’ বা ব্যক্তির আত্মচেতনার স্তর থেকে। তাছাড়া, ইকবাল পশ্চিমা আধিপত্যবাদকে কেবল রাজনৈতিক শোষণ নয়, বরং সাংস্কৃতিক ও জ্ঞানগত আধিপত্য হিসেবে দেখেছেন। এজন্য ইকবালের চিন্তায় ‘সার্বভৌম উম্মাহ’র ধারণা আধিপত্যবাদের বিপরীতে একটি বিকল্প কাঠামো নির্মাণ করে, যা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী হাতিয়ার।