সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৪ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

জয়েন্টের নীরব শত্রু-আর্থ্রাইটিস : কারণ, লক্ষণ ও আধুনিক চিকিৎসার পূর্ণাঙ্গ গাইড

হাফিজ উদ্দিন :

সকালে ঘুম থেকে উঠে হাঁটু মুড়তে গেলে একটা চিনচিনে ব্যথা, সিঁড়ি দিয়ে নামতে গেলে থমকে যাওয়া, আঙুল মুঠো করতে না পারার অস্বস্তি—এই উপসর্গগুলো অনেকের কাছে বয়সের স্বাভাবিক অনুষঙ্গ মনে হলেও এগুলো আসলে একটি নির্দিষ্ট রোগের সংকেত। সেই রোগের নাম আর্থ্রাইটিস। শরীরের জয়েন্টে বা অস্থিসন্ধিতে প্রদাহ থেকে জন্ম নেওয়া এই রোগটি বাংলাদেশ-সহ সারা বিশ্বে ক্রমাগত বাড়ছে। শুধু বয়স্করাই নন, তরুণ প্রজন্মও এখন এই রোগের শিকার হচ্ছেন।
আর্থ্রাইটিস সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ কিছু ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকে মনে করেন এটি শুধু বয়স্কদের রোগ, বা এটি নিরাময়যোগ্য নয়। আবার অনেকেই গুরুত্ব না দিয়ে ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে সময় পার করেন, যা দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। সঠিক তথ্য জানা থাকলে এই রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রতিরোধও করা যায়।
আর্থ্রাইটিস আসলে কী?
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থোস্কপি অ্যান্ড জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি ইউনিটের অর্থোপেডিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আলী ফয়সাল বলেন, মানুষের শরীরে অস্থিসন্ধি বা জয়েন্টের যেকোনো ধরনের প্রদাহকে আর্থ্রাইটিস বলা হয়। এটি কোনো একটি রোগ নয়—এটি একটি বিস্তৃত ছাদ, যার নিচে একশোরও বেশি ভিন্ন ধরনের জয়েন্ট রোগ একত্রিত।
মানব শরীরের প্রতিটি জয়েন্টের মধ্যে থাকে কার্টিলেজ বা তরুণাস্থি, যা হাড়ের মাথাগুলোকে সুরক্ষিত রাখে এবং নড়াচড়ার সময় ঘর্ষণ থেকে রক্ষা করে। এই কার্টিলেজ ক্ষয় পেলে, সংক্রমিত হলে, বা ইমিউন সিস্টেমের আক্রমণের শিকার হলে জয়েন্টে প্রদাহ শুরু হয়। ছোট-বড় সব জয়েন্টেই আর্থ্রাইটিস হতে পারে—হাতের আঙুলের ছোট জয়েন্ট থেকে শুরু করে হাঁটু, হিপ বা মেরুদণ্ডের বড় জয়েন্ট পর্যন্ত।

কী কারণে হয় এই রোগ?

আর্থ্রাইটিসের কারণ একটি নয়, একাধিক। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের জয়েন্টগুলো স্বাভাবিকভাবেই ক্ষয় পেতে শুরু করে। দশকের পর দশক ধরে জয়েন্টের উপর চাপ পড়তে থাকলে কার্টিলেজের পুরুত্ব কমে আসে। এটাই অস্টিওআর্থ্রাইটিসের মূল কারণ, যা বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
ওজন বাড়লে জয়েন্টের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। গবেষণা বলছে, মাত্র পাঁচ কিলোগ্রাম বাড়তি ওজন হাঁটুর জয়েন্টের উপর প্রায় পনেরো থেকে বিশ কিলোগ্রামের সমতুল্য চাপ তৈরি করে। এই কারণেই স্থূলকায় ব্যক্তিদের মধ্যে আর্থ্রাইটিসের হার অনেক বেশি।
বংশগত প্রভাবও এই রোগে গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারে কারো আর্থ্রাইটিস থাকলে পরবর্তী প্রজন্মে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। বিশেষত রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের ক্ষেত্রে জিনগত প্রভাব অত্যন্ত স্পষ্ট।
জয়েন্টে আঘাত পাওয়া আর্থ্রাইটিসের আরেকটি বড় কারণ। খেলাধুলায় বা দুর্ঘটনায় আঘাত পেলে, এমনকি সেই আঘাত সেরে গেলেও, পরবর্তীতে সেই জয়েন্টে আর্থ্রাইটিস হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকেও জয়েন্টে প্রদাহ হতে পারে। এ ছাড়া অটোইমিউন প্রতিক্রিয়ায়—যখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম নিজের জয়েন্টের টিস্যুকে শত্রু মনে করে আক্রমণ করে—তখনও আর্থ্রাইটিস হয়।

আর্থ্রাইটিসের বিভিন্ন রূপ :

ডা. ফয়সালের মতে, আর্থ্রাইটিসের একশোরও বেশি ধরন থাকলেও কিছু ধরন আমাদের দেশে বেশি পরিচিত। সবচেয়ে বেশি দেখা যায় অস্টিওআর্থ্রাইটিস, যাকে সাধারণ মানুষ “হাঁটুর বাত” বলে জানে। এটি মূলত বয়সজনিত ক্ষয়ের ফল। হাঁটুর কার্টিলেজ ক্ষয় পেলে হাড়ে হাড়ে ঘষা লাগে, ব্যথা হয়, হাঁটু ফুলে যায়, এবং ধীরে ধীরে হাঁটার ক্ষমতা কমে আসে। দীর্ঘদিন চিকিৎসা না করলে হাঁটু বেঁকে যেতে পারে।
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস হলো একটি অটোইমিউন রোগ। এতে শরীরের নিজস্ব প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জয়েন্টের আবরণে আক্রমণ করে। ফলে জয়েন্টে ব্যথা, ফোলাভাব এবং শক্ত হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষত সকালে ঘুম থেকে উঠলে জয়েন্টে একধরনের জড়তা অনুভব হয়, যা ধীরে ধীরে কমে। তরুণ বয়সেও এই রোগ হতে পারে।
গাউটি আর্থ্রাইটিস বা গেঁটে বাত হয় রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে গেলে। এই অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড জয়েন্টে ক্রিস্টাল হয়ে জমে এবং তীব্র ব্যথার কারণ হয়। সাধারণত পায়ের বুড়ো আঙুলে এটি বেশি হয়, তবে অন্যান্য জয়েন্টেও হতে পারে। সেপটিক আর্থ্রাইটিস হয় সরাসরি জয়েন্টে জীবাণু সংক্রমণ থেকে—এটি দ্রুত চিকিৎসা না করলে স্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে।
সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস তাদের হয় যাদের ত্বকে সোরিয়াসিস রোগ আছে। অ্যাঙ্কাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস মূলত মেরুদণ্ডের জয়েন্টকে আক্রমণ করে এবং দীর্ঘদিনে মেরুদণ্ড শক্ত হয়ে যেতে পারে। জুভেনাইল আর্থ্রাইটিস হয় ষোলো বছরের কম বয়সী শিশুদের, যা অনেক সময় শিশুর স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে।
কোন লক্ষণগুলো উপেক্ষা করা ঠিক নয়?
আর্থ্রাইটিসের লক্ষণ অনেক সময় ধীরে ধীরে আসে, তাই অনেকেই প্রথম দিকে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট সংকেত আছে যেগুলো দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
জয়েন্টে ব্যথা সবচেয়ে সাধারণ এবং প্রথম লক্ষণ। এই ব্যথা হালকাও হতে পারে, আবার এতটাই তীব্র হতে পারে যে রাতে ঘুম আসে না। জয়েন্ট ফুলে যাওয়া, গরম অনুভব হওয়া, ও লাল হয়ে যাওয়া প্রদাহের সরাসরি প্রমাণ। সকালে উঠলে জয়েন্ট জমে থাকার অনুভূতি এবং নড়াচড়া করতে কষ্ট হওয়া রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের বিশেষ লক্ষণ।
হাঁটাচলা করতে গেলে আগের মতো পারছেন না, সিঁড়িতে উঠতে বা নামতে কষ্ট হচ্ছে, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে ব্যথা বাড়ছে—এগুলো অস্টিওআর্থ্রাইটিসের চিরচেনা ছবি। ডা. ফয়সাল বলেন, সব ধরনের আর্থ্রাইটিসেই কোনো না কোনো মাত্রায় ব্যথা থাকে—এটাই এই রোগের সবচেয়ে একক সাধারণ লক্ষণ।
দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস থাকলে এবং চিকিৎসা না করলে জয়েন্ট বেঁকে যেতে পারে। হাঁটু বেঁকে যাওয়া, আঙুল বাঁকা হয়ে যাওয়া—এই ধরনের পরিবর্তন একবার হয়ে গেলে ঠিক করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ শনাক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।

রোগ নির্ণয় ও আধুনিক চিকিৎসা :

ডা. ফয়সাল জানান, আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসার আগে সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। কারণ বিভিন্ন ধরনের আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসা পদ্ধতি ভিন্ন। রোগীর ইতিহাস শুনে, শারীরিক পরীক্ষা করে এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রথমে নির্ধারণ করতে হয় কোন ধরনের আর্থ্রাইটিস হয়েছে। রক্ত পরীক্ষা, এক্স-রে, এমআরআই বা আল্ট্রাসাউন্ড—এসব পরীক্ষা রোগ নির্ণয়ে সাহায্য করে।
সব আর্থ্রাইটিসেই ব্যথা থাকে বলে চিকিৎসার প্রথম লক্ষ্য হয় ব্যথা নিয়ন্ত্রণ। ব্যথানাশক ওষুধ প্রথমেই দেওয়া হয়। তবে দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ খেলে পেট ও কিডনির উপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এগুলো খাওয়া উচিত নয়।
ব্যথা না কমলে বা রোগ এগিয়ে গেলে ডিজিজ মডিফাইং অ্যান্টিরিউমাটিক ড্রাগস (DMARDs) দেওয়া হয়। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের ক্ষেত্রে এই ওষুধগুলো বিশেষভাবে কার্যকর, কারণ এগুলো শুধু ব্যথা কমায় না বরং রোগের মূল প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়।
ওষুধের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি বা শারীরিক থেরাপি আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় অপরিহার্য। বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্ট রোগীকে নির্দিষ্ট ব্যায়াম শেখান যা জয়েন্টের আশেপাশের পেশিকে শক্তিশালী করে এবং জয়েন্টের নমনীয়তা বজায় রাখে। নিয়মিত এই ব্যায়াম করলে অনেক রোগীরই ওষুধের প্রয়োজন কমে আসে।
তবে যখন জয়েন্ট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়, বেঁকে যায়, বা ওষুধ ও থেরাপিতে কাজ হয় না, তখন সার্জারির প্রয়োজন পড়ে। হাঁটু বা হিপ রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি আজকের দিনে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এবং সফল একটি পদ্ধতি। এই সার্জারির পর বেশিরভাগ রোগীই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন। হাতের আঙুল বেঁকে গেলেও প্রতিস্থাপন সার্জারি করা সম্ভব বলে জানান ডা. ফয়সাল।

প্রতিরোধের পথ: জীবনযাত্রার পরিবর্তনই মূল চাবিকাঠি

আর্থ্রাইটিস সম্পূর্ণ এড়ানো সব সময় সম্ভব না হলেও জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন এনে এর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা। শরীরের বাড়তি ওজন সরাসরি হাঁটু ও হিপের জয়েন্টের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে। তাই সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা আর্থ্রাইটিস প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
জয়েন্টকে আঘাত থেকে রক্ষা করাও জরুরি। খেলাধুলা বা শারীরিক পরিশ্রমের সময় সঠিক সুরক্ষাসরঞ্জাম ব্যবহার করুন। অতিরিক্ত সিঁড়ি ওঠানামা না করা, একটানা দীর্ঘক্ষণ হাঁটা না করে বিরতি নেওয়া, এবং ভারী জিনিস তোলার সময় সঠিক কৌশল ব্যবহার করা—এই ছোট অভ্যাসগুলো জয়েন্টকে সুস্থ রাখে। প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ মিনিট হাঁটা এবং জয়েন্টের নির্দিষ্ট ব্যায়াম করলে জয়েন্টের আশেপাশের পেশি শক্তিশালী থাকে।
কোন খাবার উপকারী, কোনটি এড়িয়ে চলবেন?
খাদ্যাভ্যাস আর্থ্রাইটিসের ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডা. ফয়সাল জানান, হাড় ও জয়েন্টের স্বাস্থ্য রক্ষায় কিছু খাবার বিশেষভাবে উপকারী। দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার ক্যালসিয়ামের চমৎকার উৎস, যা হাড়কে মজবুত রাখে। মাছ—বিশেষত সামুদ্রিক মাছ—ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ, যা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। ভিটামিন ডি পাওয়া যায় সকালের রোদ থেকে এবং কিছু খাবার থেকে, আর এটি হাড়ের ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করে।
টক জাতীয় ফল যেমন লেবু, কমলা ও আমলকীতে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে, যা কার্টিলেজ তৈরিতে প্রয়োজনীয় কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে। পেস্তাবাদাম, কাঠবাদাম ও শিমের বীজে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট জয়েন্টের প্রদাহ কমায়। সয়াবিন উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের উৎস হিসেবে রেড মিটের একটি ভালো বিকল্প।
অন্যদিকে কিছু খাবার আর্থ্রাইটিসের প্রদাহকে বাড়িয়ে দিতে পারে। গরু ও খাসির মাংস অর্থাৎ রেড মিট যতটা সম্ভব কম খাওয়া উচিত, কারণ এতে থাকা পিউরিন ইউরিক অ্যাসিড বাড়ায় এবং প্রদাহকে উস্কে দেয়। বাঁধাকপি, পালং শাক ও গাজরের মতো সবজিতে অক্সালেট থাকে যা কিছু আর্থ্রাইটিসে ক্ষতিকর হতে পারে, তাই এগুলো পরিমিত পরিমাণে খাওয়া ভালো।
মিষ্টি ও চিনিযুক্ত খাবার শরীরে প্রদাহ বাড়ায় এবং ওজন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে—দুটোই আর্থ্রাইটিসের জন্য ক্ষতিকর। কফিতে থাকা উপাদান জয়েন্টের কার্টিলেজের ক্ষতি করতে পারে বলে গবেষণায় দেখা গেছে। ধূমপান ও অ্যালকোহল আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি বাড়ায় এবং ওষুধের কার্যকারিতা কমায়। ডালজাতীয় খাবারও পরিমিত পরিমাণে খাওয়া শ্রেয়।

সচেতনতাই সুস্থতার পথ:

আর্থ্রাইটিস একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, কিন্তু সঠিক চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্পূর্ণ সম্ভব। অনেক মানুষ মনে করেন জয়েন্টের ব্যথা বয়সের সাথেই চলে আসবে, কিছু করার নেই—এই ভুল ধারণাই রোগীকে সঠিক সময়ে চিকিৎসা নেওয়া থেকে বিরত রাখে।
জয়েন্টে ব্যথা, ফোলাভাব বা জড়তা দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে যান। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে ওষুধ ও ফিজিওথেরাপিতেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। সার্জারির প্রয়োজন হয় সাধারণত তখনই, যখন রোগকে অনেকদিন ধরে অবহেলা করা হয়।
ওজন নিয়ন্ত্রণ, সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে বিরত থাকা—এই চারটি অভ্যাস শুধু আর্থ্রাইটিস নয়, অনেক দীর্ঘমেয়াদি রোগকেই দূরে রাখতে পারে। জয়েন্টকে ভালোবাসুন, যত্ন নিন—কারণ এই ছোট হাড়-মাংসের সন্ধিগুলোই আপনাকে চলতে, দাঁড়াতে এবং জীবনকে উপভোগ করতে দেয়।

পরামর্শ দিয়েছেন : ডা. মো. আলী ফয়সাল
সহযোগী অধ্যাপক, অর্থোপেডিক বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়