স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র ছয় সপ্তাহ বাকি থাকতেই ফিফার বিরুদ্ধে ফুটবলকে রাজনীতিকরণের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ‘শান্তির শক্তি’ হিসেবে ফুটবলের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করার অভিযোগও তুলেছেন সমালোচকেরা।
নরওয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এনএফএফ) সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস ফিফার দেওয়া ‘শান্তি পুরস্কার’ বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, এমন পুরস্কার দেওয়ার দায়িত্ব ফিফার নয়; বরং এটি অসলোর নোবেল ইনস্টিটিউটের মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের ওপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত।
গত ডিসেম্বরে বিশ্বকাপ ড্র অনুষ্ঠানে ফিফা প্রথমবারের মতো এই পুরস্কার প্রদান করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্বে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
অনেকেই এটিকে ট্রাম্পের জন্য ‘সান্ত্বনা পুরস্কার’ হিসেবে দেখছেন, কারণ তিনি বিভিন্ন সময় নিজেকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য বলে দাবি করেছেন।
ক্লাভেনেস এক অনলাইন ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘আমরা (এনএফএফ) চাই এই পুরস্কারটি বাতিল করা হোক।
আমরা মনে করি না এটি ফিফার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। নোবেল ইনস্টিটিউট রয়েছে, যারা স্বাধীনভাবে এই কাজটি করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফুটবল ফেডারেশন, কনফেডারেশন এবং ফিফার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা। এ ধরনের পুরস্কার খুব সহজেই রাজনৈতিক হয়ে যেতে পারে, যদি তা নিরপেক্ষভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো, জুরি ও মানদণ্ড না থাকে। এটি একটি পূর্ণকালীন এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল কাজ..তাই ভবিষ্যতেও এটি এড়িয়ে চলা উচিত।’
৪৫ বছর বয়সী এই আইনজীবী জানান, এনএফএফ বোর্ড একটি চিঠি পাঠাবে, যেখানে ফেয়ারস্কয়ার নামের একটি অলাভজনক সংস্থার তদন্ত দাবির প্রতি সমর্থন জানানো হবে। সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, এই পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে ফিফা ও ইনফান্তিনো তাদের নিজস্ব নৈতিক নীতিমালা লঙ্ঘন করে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।
ক্লাভেনেস বলেন, ‘এই ধরনের বিষয়ে চেক অ্যান্ড ব্যালান্স থাকা উচিত। ফেয়ারস্কয়ারের অভিযোগটি স্বচ্ছ সময়সীমার মধ্যে তদন্ত করতে হবে এবং সিদ্ধান্তের কারণ ও ফলাফলও স্বচ্ছ হতে হবে।’
এই বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে ফিফা কোনো জবাব দেয়নি।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার ফুটবলার জ্যাকসন আরভাইনও ফিফার সমালোচনা করে বলেছেন, সংস্থাটির এমন সিদ্ধান্ত ফুটবলের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি ফিফার মানবাধিকার নীতিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরভাইন বলেন, ‘এ ধরনের সিদ্ধান্ত ফিফার মানবাধিকার নীতিকে উপহাসে পরিণত করেছে। তারা ফুটবলকে বিশ্বজুড়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়, কিন্তু এই পুরস্কার সেই চেষ্টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের সিদ্ধান্ত ফুটবলকে সাধারণ মানুষের জীবন ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে, বিশেষ করে শীর্ষ পর্যায়ে এটি কী হয়ে দাঁড়াচ্ছে; সেটা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।’
উল্লেখ্য, বিশ্বকাপ ড্রয়ের এক মাস পর যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলা চালায় এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলা শুরু করে।
ফিফা ২০১৭ সালে প্রথম মানবাধিকার নীতি প্রণয়ন করে। ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য তাদের মানবাধিকার কাঠামোয় আয়োজক শহরগুলোতে অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং বৈষম্য রোধের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা মনে করছে, খেলোয়াড়, দর্শক ও কর্মীদের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করা প্রয়োজন ফিফার। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি ও বহিষ্কার কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ বিশ্বকাপ।