বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১১ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নির্ভুল তালিকা প্রণয়নে সরকারের কার্যক্রম শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক : মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের একটি নির্ভুল ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের লক্ষ্যে সরকার কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্ন উত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমীন দুলালের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে মন্ত্রী এ কথা জানান। এ সময় অধিবেশনের সভাপতি করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্ন উত্তরের প্রশ্নে রুহুল আমীন দুলাল বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অনুগ্রহ করে বলবেন কি, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন এবং যাদের গণহত্যা করা হয়েছিল, তাদের তালিকা করা হবে কিনা?

জবাবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেটভুক্ত শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৬৪৮০ জন। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের গেজেটের ক্যাটাগরি অনুযায়ী শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা হলো- শহীদ বেসামরিক গেজেট ৩৬৯৮ জন, সশস্ত্র বাহিনী শহীদ গেজেট ১৫৪১ জন, শহীদ বিজিবি গেজেট ৮১৭ জন, শহীদ পুলিশ গেজেট ৪২৩ জন, শহীদ আনসার বাহিনী গেজেট ১ জন, মোট ৬৪৮০ জন। গেজেটভুক্ত শহীদ বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা ৫৬০ জন।

মন্ত্রী বলেন, এছাড়াও আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় অগণিত মানুষ গণহত্যার শিকার হয়েছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, স্বাধীনতার এত বছর পরেও তাদের একটি সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন করা সম্ভব হয়নি। অথচ তাদের এই আত্মত্যাগের বিনিময়েই আমরা অর্জন করেছি আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে বর্তমান সরকার নির্বাচনি ইশতেহারে নিবিড় গবেষণার ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

তিনি বলেন, ওই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষকদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ সভা আয়োজন, বিভিন্ন অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে একটি বিস্তারিত ও বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তার ভিত্তিতে কার্যক্রম গ্রহণ।

আহমেদ আযম খান বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণহত্যার শিকার এবং সকল শহীদের একটি নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য তালিকা প্রণয়ন এবং তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যাদা প্রদান সম্ভব হবে।