টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় ডিবি পুলিশের ওপর হামলা করেছে মাদক কারবারিরা। মাদক কারবারিদের মারধরে ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটনায়। এঘটনায় যুবদল নেতাসহ ৭ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আহতদের টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাত সাড়ে ১১টায় টঙ্গীর হিমারদিঘী আমতলী কেরানিরটেক বস্তিতে। এঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানায় ৮জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামী করে একটি মামলা (নং-৫৩)দায়ের করা হয়েছে।
মামলাসূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত সোয়া ১০টার দিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিবির) একটি দল টঙ্গীর হিমারদিঘী আমতলী কেরানিরটেক বস্তিতে মাদক বিরোধী অভিযান চালায়। পরে বিষয়টি টের পেয়ে মাদক কারবারিরা পুলিশকে ঘিরে ফেলে এবং হামলার চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে পুলিশ ও মাদক কারবারিদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।
এসময় আসামিরা পুলিশের সরকারি কাজে বাধা দিলে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিত স্বাভাবিক রাখতে এবং জানমাল ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষার্থে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ৪টি ফাঁকা সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। একপর্যায়ে মাদক কারবারিরা অর্তকিতে হামলা চালিয়ে ডিবি পুলিশের কনস্টেবল আরিফুল ইসলাম (ক.নং-১৬৪৩), রাকিবুল ইসলাম (ক.নং-১৩২৮), এএসআই (নিরস্ত্র) নুরে আলম ও নারী কনস্টেবল জাহানারা ইসলামকে (ক.নং-৬২৯)মারধর করে আহত করে। পরে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে মাদক কারবারি শাহীন আহম্মেদ রিজভী ওরফে শাহীন (৩৬), সোহেল (২৮), রায়হান (১৯), রওশন আরা (৩০), সুমি আক্তার (২৪), নূরজাহান (৫৩) ও বিউটি আক্তারকে (৫৬) গ্রেপ্তার করে । তবে কেরানিরটেক বস্তির শীর্ষ মাদক কারবারি রুনা আক্তার ওরফে রুনা বেগম (৩৮) অভিযানের একপর্যায়ে কৌশলে সটকে পড়েন।
এদের মধ্যে শাহীন আহম্মেদ রিজভী টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সভাপতি পদপ্রার্থী ও গাসিক ৪৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী। গ্রেপ্তারকৃত রওশন আরা তার স্ত্রী।
এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে গাজীপুর মহানগর যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক ফয়সাল হোসেন বলেন, শাহীন আহম্মেদ রিজভী যুবদল করে। তবে বর্তমানে তার কোনো পদপদবি নাই।
এঘটনায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. বেলায়েত হোসেন বুধবার রাত সাড় ১২টায় টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি প্রেস ব্রিফিং করেন।
এসময় তিনি জানান, বুধবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি (দক্ষিণ) সহকারি পুলিশ কমিশনার মো. আছাবুর রহমানের নেতৃত্বে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবি উত্তর ও দক্ষিণ পুলিশ যৌথভাবে টঙ্গীর হিমারদিঘী আমতলী কেরানিরটেক বস্তি এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান চালায়। আভিযানিক দলটি একাধিক মামলার আসামী রুনা আক্তার ওরফে রুনা বেগমের বাসার সামনে উপস্থিত হলে একদল মাদক কারবারি চিৎকার চেঁচামচি করে অন্য মাদক কারবারিদের জড়ো করে পুলিশের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। এসময় মাদক কারবারিরা পুলিশের ৪জন সদস্যকে মারধর করে আহত করে।
এব্যাপারে টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। তাদেরকে বৃহস্পতিবার বিকেলে গাজীপুর বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।