শনিবার, ৯ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৬ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২১ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

জমিদার যতীন্দ্র কুমারের টিকে থাকা ঢাকার এই বাড়ি এখন ছাত্রাবাস

মো. হাফিজ উদ্দিন:

পুরান ঢাকার শ্যামবাজার এলাকায়, ফরাশগঞ্জের ঠিক পাশেই অবস্থিত একটি শতবর্ষী প্রাসাদ আজও দাঁড়িয়ে আছে দৃঢ়ভাবে। নাম তার মঙ্গলাবাস। এই ভবনটি শুধু ইট-কাঠ-সিমেন্টের একটি স্থাপনা নয়, বরং ঢাকার ঔপনিবেশিক ইতিহাস, জমিদারি আমলের ঐশ্বর্য, দেশভাগের বেদনাময় স্মৃতি, মুক্তিযুদ্ধের ক্ষতচিহ্ন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষার্থী জীবনের এক জীবন্ত সাক্ষী। টাঙ্গাইলের জমিদার যতীন্দ্র কুমার সাহা উনিশ শতকের শেষভাগে এই বাড়িটি নির্মাণ করিয়েছিলেন। আজও এর স্থাপত্যসৌন্দর্য, ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং সাংস্কৃতিক মূল্য পুরান ঢাকার অনেক ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার মধ্যে তাকে এক অনন্য স্থান দিয়েছে।
১৮৬৪ সালে ঢাকা মিউনিসিপ্যালিটির যাত্রা শুরু হয়। ব্রিটিশ শাসনামলে এটি ছিল শহর উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর আগে ঢাকা ছিল মূলত একটি প্রাচীন নগরী, যার শাসনব্যবস্থা ছিল অনেকটা অবহেলিত। মিউনিসিপ্যালিটি গঠনের পর থেকে রাস্তাঘাট নির্মাণ ও মেরামত, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, পানীয় জল সরবরাহ এবং আবর্জনা অপসারণের মতো অত্যাবশ্যকীয় কাজগুলো ধাপে ধাপে শুরু হয়। এই সময়কালে রেলপথ এবং নৌপথেরও যথেষ্ট উন্নতি ঘটে। বিশেষ করে বুড়িগঙ্গা নদীকে কেন্দ্র করে ঢাকার সঙ্গে কলকাতা, নারায়ণগঞ্জ এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক শহরের যোগাযোগ অনেক সহজ ও দ্রুত হয়ে ওঠে। নদীপথে স্টিমার ও নৌকার চলাচল বৃদ্ধি পায়। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটে এবং শহরের অর্থনৈতিক জীবন চাঙ্গা হয়ে উঠতে থাকে।
এই যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির সরাসরি প্রভাব পড়ে শহরের ভৌগোলিক বিস্তারে। ঢাকার পরিধি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। পুরনো শহরের সীমানা ছাড়িয়ে নতুন নতুন এলাকায় বসতি গড়ে উঠতে থাকে। সূত্রাপুর, লালবাগ, ওয়ারী, নারিন্দা–এসব অঞ্চল ধীরে ধীরে বিকশিত হয়ে ওঠে। মানুষজন নতুন করে ঘরবাড়ি তৈরি করেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তবে এর মধ্যে ফরাশগঞ্জ এলাকা ছিল সবচেয়ে পুরনো এবং জমজমাট। এটি ছিল ফরাসি বণিকদের প্রধান ব্যবসাকেন্দ্র। ইংরেজদের আগমনের অনেক আগে থেকেই ফরাসি, পর্তুগিজ, ওলন্দাজ এবং আর্মেনিয়ান বণিকদের আধিপত্য এখানে প্রতিষ্ঠিত ছিল। তারা এখানে বাণিজ্যিক কুঠি স্থাপন করেছিলেন, যার ফলে এলাকাটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। মসলা, কাপড়, চামড়া এবং অন্যান্য পণ্যের আমদানি-রপ্তানি চলত এখান দিয়ে। ফরাশগঞ্জের নামটিও এসেছে ফরাসিদের ‘ফরাশ’ শব্দ থেকে।
ফরাশগঞ্জের পাশের জনপদই শ্যামবাজার। উনিশ শতকের শেষ দিকে টাঙ্গাইলের জমিদার যতীন্দ্র কুমার সাহা এই শ্যামবাজারে মঙ্গলাবাস নামে তাঁর ঢাকার বাসভবনটি নির্মাণ করেন। জমিদারি আমলে ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা প্রায়ই মূল জমিদারির বাইরে শহরে আলাদা বাড়ি তৈরি করতেন। আধুনিক যুগের ধনী ব্যক্তিরা যেমন হলিডে হোম বানিয়ে রাখেন, ঠিক তেমনি মঙ্গলাবাস ছিল যতীন্দ্র কুমারের ঢাকার অবসরযাপন ও সামাজিক কার্যকলাপের কেন্দ্র। ঢাকায় এলে তিনি এই বাড়িতেই অবস্থান করতেন। এখান থেকে তিনি তাঁর জমিদারির কাজকর্ম দেখাশোনা করতেন, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন এবং সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজন করতেন। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের আগ পর্যন্ত তাঁর এই যাতায়াত অব্যাহত ছিল। তবে তাঁর মূল জমিদারি টাঙ্গাইলে ছিল নাকি অন্য কোথাও—এ নিয়ে ঐতিহাসিক ও গবেষকদের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে। কেউ বলেন টাঙ্গাইলের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তাঁর জমিদারি ছড়িয়ে ছিল, আবার কারো মতে এটি ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ছিল। যাই হোক, মঙ্গলাবাস তাঁর জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছিল।
দেশভাগের সময় অনেক জমিদার ও ধনী পরিবার সম্পত্তি বিনিময় বা অন্যান্য ব্যবস্থায় রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। কিন্তু যতীন্দ্র কুমার সাহা তা পারেননি। তিনি এই প্রাসাদটি ফেলে রেখে কলকাতায় চলে যান। ফলে বাড়িটি অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। ঢাকার ইতিহাসের জীবন্ত ডিকশনারি হিসেবে পরিচিত আজিম বখশের স্মৃতিতে এই বাড়ির বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায়। তিনি বলতেন, ৩ নম্বর মোহিনী মোহন দাস লেনে অবস্থিত মঙ্গলাবাসের পাশেই ছিল সরদার মাওলা বখশের বাড়ি। শৈশব থেকে এই এলাকায় বেড়ে ওঠা আজিম বখশ এবং তাঁর পরিবার এই ভবনের প্রতিটি ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন।
দেশভাগের পর মঙ্গলাবাসে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের কয়েকজন কর্মকর্তা অবস্থান করতেন। কিন্তু ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় এই ঐতিহ্যবাহী বাড়িটিও লুটপাটের শিকার হয়। যুদ্ধের ধ্বংসাত্মক সময়ে অনেক স্থাপনার মতো এটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মুক্তিযুদ্ধের পর এই ভবনটিকে পুরান ঢাকার কবি নজরুল সরকারি কলেজের ছাত্রাবাস হিসেবে ব্যবহার শুরু হয়। এটি শহীদ শামসুল আলম ছাত্রাবাস নামে পরিচিতি লাভ করে। শামসুল আলম ছিলেন কবি নজরুল কলেজেরই একজন প্রতিশ্রুতিশীল শিক্ষার্থী, যিনি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন। তাঁর স্মৃতিকে সম্মান জানাতে এই নামকরণ করা হয়। এখানে কলেজের শিক্ষার্থীরা বাস করেন এবং পড়াশোনা চালিয়ে যান।
একই সঙ্গে নিচতলার একটি কক্ষ ছেড়ে দেওয়া হয় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘মুক্তি খেলাঘর আসর’-এর জন্য। শিশুসাহিত্যিক হাবীবুর রহমানের উদ্যোগে ১৯৫২ সালের ২ মে ঢাকায় ‘খেলাঘর’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর একটি শাখা হিসেবে মুক্তি খেলাঘর আসর গড়ে ওঠে। এখানে শিশু-কিশোরদের জন্য নাটক, আবৃত্তি, গান, চিত্রাঙ্কন, খেলাধুলা এবং নানা সৃজনশীল কর্মকাণ্ড চলত। আজিম বখশের স্মৃতিচারণে এই আসর ছিল এলাকার শিশুদের জন্য এক আনন্দময় শিক্ষাকেন্দ্র। কিন্তু সময়ের প্রবাহে সংগঠনটি দুর্বল হয়ে পড়ে। আজও স্থানীয় চায়ের দোকানদার, ফুচকাওয়ালা বা সাধারণ মানুষ এই ভবনটিকে ‘খেলাঘরের ভবন’ হিসেবেই চেনেন। মঙ্গলাবাস নাম বললে অনেকে হয়তো চিনবেন না, কিন্তু খেলাঘরের কথা বললেই গলির ভিতরে চিনিয়ে দেবেন।
পুরান ঢাকা নিয়ে গবেষণা ও লেখালেখির সুবাদে একাধিকবার এই বাড়িতে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। সম্প্রতি এক বিকেলে আবার গিয়ে দেখা গেল, একসময়ের জমজমাট এই জনপদ আজ অনেকটা ম্লান ও জীর্ণ। শতবর্ষী ভবনগুলো এখনো দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু তাদের দেয়ালে লেখা ইতিহাসের গল্পগুলো যেন ক্রমশ মুছে যাচ্ছে। অতীতে এখানে ছিল প্রাণের স্ফূরণ, বাণিজ্যের চাঞ্চল্য, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং সমাজজীবনের উষ্ণতা। আজ সেই সবকিছু একটা ক্লান্ত, মলিন চেহারা নিয়েছে। সরু গলি, পুরনো দোকানপাট এবং জীর্ণ ভবনগুলোর মাঝে এখনো ঐতিহ্যের একটা হালকা ছোঁয়া অনুভব করা যায়।
মঙ্গলাবাস নিয়ে আলোচনা এত বেশি হওয়ার প্রধান কারণ এর অসাধারণ স্থাপত্যশৈলী। বাইরে থেকে দেখলে এটি দ্বিতল মনে হয়, কিন্তু দোতলার দক্ষিণ দিকের কিছু অংশ ত্রিতল। এই ত্রিতল অংশটির উচ্চতা বর্তমান পাঁচতলা ভবনের সমান। এটি ব্রিটিশ আমলের ইউরোপীয় নিও-ক্ল্যাসিক্যাল স্থাপত্যের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। সামনের দিকটা কিছুটা জরাজীর্ণ দেখালেও ভেতরে এখনো অনেকটা অক্ষুণ্ণ রয়েছে। ভবনের মধ্যে তিনটি সুন্দর মুক্ত উঠান রয়েছে। একটি বেশ বড় এবং প্রশস্ত, যেখানে জমিদার যতীন্দ্র কুমার তাঁর পারিষদবর্গ ও অতিথিদের নিয়ে বসতেন, আলোচনা করতেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন। দ্বিতীয় উঠানটি ছোট, যেখানে বাড়ির নারীরা বিকেলবেলা অবসর সময় কাটাতেন, গল্প করতেন এবং সেলাই-বোনা করতেন। তৃতীয় উঠানটির ব্যবহার নিয়ে স্পষ্ট তথ্য কম পাওয়া যায়, তবে এটি সম্ভবত দৈনন্দিন কাজকর্ম ও সেবাদাসদের জন্য ব্যবহৃত হতো।
বাড়ির পেছনের দিকে সেই আমলের গোসলখানার ব্যবস্থা হিসেবে একটি বড় কুয়া ছিল। আশ্চর্যজনকভাবে আজও সেই কুয়া থেকে পানি তুলে গোসল করা হয়। ভবনের দেয়ালের কিছু অংশ এবং কয়েকটি ঘরে প্রাচীন সিরামিক টাইলস এখনো টিকে আছে, যা সেই যুগের সৌন্দর্যবোধ ও কারিগরি দক্ষতার প্রমাণ বহন করে। সিঁড়ি বেয়ে ছাদে উঠলে বিশাল খোলা আকাশ চোখে পড়ে। এই ছাদ এবং নিচতলার উঠানগুলোতে অনেক চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপনের দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে। ‘চোরাবালি’, ‘মুসাফির’সহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনচিত্র এখানে নির্মিত হয়েছে। এসবের কারণে ভবনটির দৃশ্যগত আকর্ষণ আরও বেড়েছে।
সামান্য কিছু সংস্কার ছাড়া প্রাসাদটির আদি রূপ এখনো অনেকাংশে বজায় আছে। তবে সংস্কারকাজ নিয়েও বিতর্ক কম নয়। কবি নজরুল সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে সংস্কারের নামে মূল স্থাপত্য অবয়ব নষ্ট করা হচ্ছে। ২০২০ সালের শেষ দিকে আরবান স্টাডি গ্রুপ এই বিষয়ে মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানায়। এই গ্রুপ পুরান ঢাকার ঐতিহ্য সংরক্ষণে নিয়োজিত একটি সক্রিয় সংস্থা। তাদের মতে, মঙ্গলাবাস একটি কারুকার্যখচিত নিও-ক্ল্যাসিক্যাল স্টাইলের ভবন। এর রেলিং, রঙিন শার্সি (স্টেইন্ড গ্লাস) এবং খিলানের নকশা অসাধারণ। শার্সির মাধ্যমে সূর্যের আলো ভেতরে প্রবেশ করে বর্ণিল রং ছড়িয়ে দেয়, যা ঘরের ভেতর এক অনন্য আবহ তৈরি করে। এতে সৌন্দর্যের পাশাপাশি গোপনীয়তাও রক্ষা পেত।
ভেতরে চক মেলানো বারান্দায় হাতে তৈরি অলংকরণ, নকশাযুক্ত লোহার পিলার, কাঠের ঝালর এবং প্রাচীন টাইলসের ব্যবহার দেখলে মুগ্ধ হতে হয়। সম্মুখ অবয়ব কিছুটা বৃত্তাকার, যেখানে নকশাসংবলিত খিলানের সারি রয়েছে। খিলানের ফাঁকে ফাঁকে করিন্থিয়ান ক্যাপিটালযুক্ত বিশাল উচ্চতার কলাম দাঁড়িয়ে আছে। এসব উপাদান মিলে ভবনটিকে ঢাকার স্থাপত্য ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শনে পরিণত করেছে।
বর্তমানে এই ছাত্রাবাসে প্রায় দেড়শ শিক্ষার্থী থাকেন। মোট ৩৫টি ঘর রয়েছে। একটি ঘর দিয়ে ঢুকে অন্যান্য কক্ষে যাওয়া যায়। শিক্ষার্থীদের থাকার অবস্থা অত্যন্ত কষ্টকর। আস্তর খসে পড়ছে, দেয়ালে ফাটল, ছাদ ফুটো হয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে। অনেকে মশারির ওপর ত্রিপল টানিয়ে রাত কাটান। তবুও ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় এবং সাশ্রয়ী আবাসনের কারণে তারা এখানে থাকতে বাধ্য হন।
আরবান স্টাডি গ্রুপের প্রধান নির্বাহী তাইমুর ইসলাম বলেন, এটি মাল্টিপল কোর্ট বা একাধিক উন্মুক্ত আঙিনাবিশিষ্ট ভবন। স্থাপত্যিক ও নান্দনিক গুরুত্বের কারণে এটি ঢাকার প্রধান ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। সূত্রাপুর ও আশপাশের অনেক ভবন যেমন নর্থব্রুক হল, রোজ গার্ডেন, সূত্রাপুর জমিদারবাড়ি, রূপলাল হাউস, শঙ্খনিধি হাউস ইত্যাদি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে মঙ্গলাবাস এখনো সেই তালিকায় স্থান পায়নি।
পুরান ঢাকার ঐতিহ্য সংরক্ষণ আজ এক জরুরি জাতীয় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত নগরায়ণ, বাণিজ্যিক চাপ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অবহেলার কারণে অনেক ঐতিহ্যবাহী ভবন ধ্বংস হচ্ছে বা বিকৃত হচ্ছে। মঙ্গলাবাসের মতো স্থাপনা শুধু স্মৃতি নয়, এগুলো আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়, ইতিহাস এবং স্থাপত্য ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে এই ভবনকে যথাযথ সংরক্ষণ করে ছাত্রাবাস হিসেবে ব্যবহার নিশ্চিত করা উচিত। সংস্কার যেন মূল চরিত্র নষ্ট না করে, বরং তাকে পুনরুজ্জীবিত করে।
মঙ্গলাবাস শুধু একটি বাড়ি নয়। এটি ঢাকার সমাজ, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের এক অমূল্য দলিল। জমিদার যতীন্দ্র কুমারের সময় থেকে শুরু করে আজকের ছাত্রদের দৈনন্দিন সংগ্রাম পর্যন্ত–এখানে মিশে আছে বহু যুগের গল্প, স্বপ্ন এবং স্মৃতি। যদি আমরা এর যত্ন না নিই, তাহলে একদিন এই প্রাসাদও হারিয়ে যাবে চিরতরে। পুরান ঢাকার প্রাণশক্তি রক্ষায় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্য পৌঁছে দিতে মঙ্গলাবাসের মতো নিদর্শনগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব। সচেতনতা, সংরক্ষণ নীতি এবং সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে হবে। শুধুমাত্র তাহলেই আমরা আমাদের অতীতকে সম্মান করতে পারব এবং ভবিষ্যতকে সমৃদ্ধ করতে পারব।