মুক্তবাণী রিপোর্ট : অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা ও অবৈধ ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা চীনে পাচারের মামলায় ৫ চীনা নাগরিকের ফের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।একই সঙ্গে অপর এক চীনা নাগরিকসহ তিন জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকি রিমান্ড ও কারাগারে পাঠানোর এই আদেশ দিয়েছেন।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন— এমএ জি (৩৩), ঝাং জিয়াহাও (২২), লিও জিঞ্জি (৩২), ওয়াং শিবো (২৪), জেমস ঝু (৪৩)। কারাগারে যাওয়া তিন আসামি হলেন— চাং তিয়ানতিয়ান (২৯), মো. কাউসার হোসেন (২৪) ও মো. আব্দুল-কারিম (২৮)।
রাজধানীর উত্তরা ও তুরাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে গত ১৩ মে রিমান্ড ও কারাগারে যাওয়া আসামিরাসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। গত ১৪ মে ৮ জনের ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। আর অপর আসামি রোকন উদ্দিনের রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন আদালত।
ওই রিমান্ড শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সাইবার টিম দক্ষিণের এসআই মো. রাশেদুল ইসলাম এদিন ৫ জনের ফের ৩ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। অপর ৩ জনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
গত ১৪ মে দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, গত ১ মে থেকে অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছি। এরই অংশ হিসেবে আমাদের সাইবার টিম রাজধানী উত্তরা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অনলাইন জুয়া সাইবার প্রতারণা ও অবৈধ ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন চক্রের ছয় চীনা সদস্যসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শফিকুল ইসলাম আরো জানান, ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমটি নিয়মিত সাইবার মনিটরিংকালে ফেসবুক, ইউটিউব, টেলিগ্রাম গ্রুপে এবং বিভিন্ন ভুয়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন, ডিপোজিট বোনাসের প্রলোভন এবং বিকাশ/নগদ ব্যবহার করে অবৈধ লেনদেনের তথ্য শনাক্ত হয়। এসব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে স্বল্প সময়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হচ্ছিল। এমন তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ১৩ নং সেক্টর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাউসার, করিম ও রোকনকে এবং তুরাগ থানাধীন রুপায়ন হাউজিং এস্টেট এলাকা থেকে চীনা নাগরিকদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের নিকট থেকে এই অনলাইন জুয়া কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনেক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, এসময় তাদের নিকট থেকে ৩টি ৬৪-পোর্ট বিশিষ্ট জিএসএম/জিপিআরএস সিম মডিউল (ভিওআইপি জিএসএম গেটওয়ে) মেশিন, ১টি ৮-পোর্ট বিশিষ্ট জিএসএম/জিপিআরএস সিম মডিউল মেশিন, ১টি ২৫৬-পোর্ট বিশিষ্ট জিএসএম/জিপিআরএস সিম মডিউল মেশিন, বিভিন্ন অপারেটরের প্রায় ২৮০টি সিম কার্ড, একাধিক ল্যাপটপ, ২০টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন, নগদ প্রায় ৬ লাখ ৫ হাজার টাকা, বিদেশি নাগরিকদের পাসপোর্ট এবং এনআইডি ও ১টি টয়োটা মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের সাইবার টিমের এসআই সুব্রত দাশ রমনা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।