শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৭ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৭ সফর, ১৪৪৮ হিজরি

মাহবুব কবীর মিলন : দেশ চালায় আমলারা, এটা অসীমকাল পর্যন্ত বহাল থাকবে

মুক্তবাণী রিপোর্ট : সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুব কবীর মিলন বলেছেন, ‘দেশ চালায় আমলারা, এটা অসীমকাল পর্যন্ত বহাল থাকবে। কারো ক্ষমতা নেই তা রোধ করার।
দেশের উন্নতির জন্য কিছু করতে চাইলে তা অনেকাংশে পারবে আমলারাই।’

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন।

ওই পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমি পুরোদস্তুর বা কেতাদুরস্ত আমলা কখনোই হতে পারিনি বা ছিলাম না। আমার জেলা প্রশাসক বন্ধুদের বলতাম, জনগণের কাছে যাওয়ার সময় স্যুট-কোট (শীতকাল ছাড়া) পড়ে কেন যাস তোরা! জামাকাপড়ে কেন এত পার্থক্য থাকবে, যাতে বুঝা যায় তুমি একজন জেলা প্রশাসক আর ওরা সবাই মফিজ বা আম জনতা।
মিলে যাও এক সঙ্গে। তারমানে এই নয় যে, তুমি লুঙ্গি পরে যাবা।’

মাহবুব কবীর মিলন বলেন, ‘জেলা প্রশাসক হবার ফিট লিস্টে যাতে নাম না ওঠে, তার সব রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। এর প্রধান কারণ ছিল এলআর ফান্ড।
আমার বন্ধু মুনির চৌধুরীও তাই করেছিল। আরো অনেকে হয়নি অন্যান্য অনেক কারণে।’

সাবেক এ সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘বেইলি রোড অফিসার্স ক্লাবের মেম্বার কখনোই হইনি। চাকরি জীবনে একটা বিয়ের দাওয়াত ছাড়া আর কখনোই যাইনি। প্রশাসন ক্যাডারের একজন গর্বিত সদস্য হওয়ার পরও অ্যাসোসিয়েশনের মিটিংয়ে একবারের জন্যও যাইনি।
খারাপ কিছুর জন্য নয়। আমি একেবারেই নিভৃতচারী। ছাত্র জীবনেও তাই ছিলাম। কোনো আড্ডা, কোনো সংগঠন, কোনো রাজনীতির সঙ্গে কখনো জড়িত ছিলাম না।’

তিনি বলেন, ‘পারি আর না পারি, চাকরি জীবনে মানুষের কল্যাণের জন্য প্রাণান্তকর চেষ্টা করে গিয়েছি। সেটাই ছিল আমার একমাত্র সাধনা। কম্প্রোমাইজ কখনো করিনি। কখনো চুপ ছিলাম না। জনগণের ক্ষতি হয়, এমন তথ্য জীবনে ধামাচাপা দেইনি। ঊর্ধ্বতন, নিম্নতম, মন্ত্রী, নেতা, ক্যাডার, মাস্তান, চাঁদাবাজ, কেউ আমার মাথা কিনতে পারিনি বা সাহস পায়নি।’

সাবেক এ আমলা বলেন, ‘দেশ চালায় আমলারা। এটা অসীমকাল পর্যন্ত বহাল থাকবে। কারো ক্ষমতা নেই তা রোধ করে। দেশের উন্নতির জন্য কিছু করতে চাইলে, তা অনেকাংশে পারবে আমলারাই। যেহেতু তারা ক্ষমতার সঙ্গে থাকে। ভিন্নমত থাকতেই পারে। কাজে দেশের ক্ষতির জন্যও দায়ীও আমলারাই। পদ, পদোন্নতি, এক্সটেনশন, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের লোভে বা জন্য আমলাদের দলদাস বা মেরুদণ্ড হারাতেই হবে। এটা ইউনিভার্সেল ট্রুথ। কারণ মেধা আর সততার কোনো দাম নেই এদেশে।’

তিনি বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য ধ্বংসের জন্য দায়ী আমলা বা সরকারি কর্মকর্তারাই। তার একটা চরম উদাহরণ বলেছি গতকালের ভিডিওতে। শতশত উদাহরণ দেওয়া যাবে।’

সাবেক অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘আমাকে সাংগঠনিকভাবে যুক্ত হয়ে নিরাপদ খাদ্য আন্দোলন চালাবার জন্য অনেকে পরামর্শ দিয়েছেন। তা না করার জন্য অনেকেই দুষছেন। অনেক আলোচনা সভা, সেমিনার, ওয়ার্কশপ, গোল টেবিল, আমার কাছে শুধু চা নাস্তা খাওয়ার আর গ্যাজানো মনে হয়। সেখানে আসল বিষয় ধামাচাপা দিয়েই আলোচনা শুরু এবং শেষ হয়। কোনো সংগঠন কিছু করতে চাইলে কাজ করে দেখান। আমি তো সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দিচ্ছি। শুধুমাত্র একটা সমাধান করে দেখান প্লিজ। তারপর আমাকে ডাকবেন। কিভাবে এগিয়ে যাবেন, তার পরামর্শ শতবার দিতে রাজি আছি।’