আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোর একটি মসজিদে সশস্ত্র হামলায় হামলাকারীদের মুখে দাঁড়িয়ে নিজের জীবন দেন নিরাপত্তাকর্মী আমিন আবদুল্লাহ। তার এই আত্মত্যাগে মসজিদে থাকা শতাধিক মানুষের প্রাণ রক্ষা পায় বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। হামলাকারীরা মসজিদের প্রবেশপথে গুলিবর্ষণ শুরু করলে আবদুল্লাহ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং লকডাউন ব্যবস্থা কার্যকর করেন। ফলে ভেতরে থাকা শিশু ও মুসল্লিরা নিরাপদে থাকতে পারেন। কর্তৃপক্ষ তার এই ভূমিকাকে ‘বীরোচিত’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
নিহত নিরাপত্তাকর্মী আমিন আবদুল্লাহ আট সন্তানের জনক ছিলেন বলে জানিয়েছে কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর)-এর সান ডিয়েগো শাখা।
সান ডিয়েগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘তার কর্মকাণ্ড নিঃসন্দেহে বীরোচিত ছিল। তিনি আজ অনেক প্রাণ রক্ষা করেছেন।’
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুই কিশোর হামলাকারী মসজিদের প্রবেশপথে আবদুল্লাহকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে তিনি পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। একই সঙ্গে তিনি দ্রুত লকডাউন ব্যবস্থা কার্যকর করেন, যার ফলে মসজিদ-সংলগ্ন একটি স্কুলে থাকা প্রায় ১৪০ শিশু নিরাপদে থাকে।
এরপর হামলাকারীরা পার্কিং লটে গিয়ে আরও দুই মুসল্লিকে গুলি করে হত্যা করে। পুলিশ জানায়, আবদুল্লাহর প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের কারণে হামলাকারীরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং আরও বড় ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়।
নিহত অন্য দুইজনকে মুসল্লি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির বরাত দিয়ে জানা যায়, তাদের একজন মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণের কাজে যুক্ত ছিলেন এবং অপরজনের স্ত্রী ইসলামিক সেন্টারের স্কুলে শিক্ষকতা করেন।
সিএআইআর-এর মুখপাত্র তাজহীন নিজাম বলেন, ‘আমিন আবদুল্লাহ ছিলেন অত্যন্ত সদয় মানুষ। তিনি প্রতিদিন হাসিমুখে সবাইকে স্বাগত জানাতেন। শিশুদের প্রতি তার বিশেষ যত্ন ছিল। তিনি ছিলেন সত্যিকারের নায়ক।’
স্থানীয়রা ও পরিচিতরা জানান, আবদুল্লাহ দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে মসজিদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি যেকোনো আগন্তুককে আন্তরিকভাবে অভ্যর্থনা জানাতেন।
হামলায় নিহতদের স্মরণে আয়োজিত এক সমাবেশে আবদুল্লাহর মেয়ে হাওয়া আবদুল্লাহ বলেন, তার বাবা সবসময় চাইতেন মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকুক। তিনি বলেন, ‘তিনি চাইতেন আমরা সবাই-যে যেই পরিচয়েরই হই না কেন-আরও ভালো মানুষ হই।’
পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় সন্দেহভাজন দুই হামলাকারীর বয়স ছিল ১৭ ও ১৮ বছর। হামলার পর তারা কিছু দূর গিয়ে একটি গাড়িতে আত্মহত্যা করে।
তদন্তে এটিকে ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পুলিশ বলছে, হামলার পেছনে ঘৃণামূলক বক্তব্য ও মতাদর্শের প্রভাব থাকতে পারে।
ঘটনাস্থল থেকে তিনটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৩০টির বেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও একটি ক্রসবো উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্রগুলো এক সন্দেহভাজনের অভিভাবকের নামে নিবন্ধিত ছিল বলে জানিয়েছে এফবিআই।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্স এই ঘটনাকে ‘ঘৃণ্য’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মতভেদ থাকলেও আমাদের কথা বলতে হবে, গুলি করা নয়।’