নিজস্ব প্রতিবেদক : ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় তার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে আইন ও প্রচলিত রীতিনীতি মেনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সচিবালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা।
সম্প্রতি একটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হওয়ার পর সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। গণমাধ্যমগুলো আইন ও রীতিনীতি মেনে দায়িত্বশীলভাবে বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে সরকার আশা করে।’
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছাড়েন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে ওই বছরের ৫ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার সব ধরনের বিদ্বেষমূলক বক্তব্য গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দেন।
এরপর ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত শেখ হাসিনার বক্তব্য ও বিবৃতি প্রচার না করতে গণমাধ্যমকে নির্দেশ দেয় জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি। টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে এ–সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।
ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়েও কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘দুটি সফরই অত্যন্ত সফল হয়েছে। বাংলাদেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখেই সরকার পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবে এবং যেকোনো দেশের সঙ্গে সংযোগ (কানেক্টিভিটি) গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য কানেক্টিভিটি প্রকল্পগুলোর বাস্তবতা যাচাই করা হবে।’
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘বর্ষার পানি সংরক্ষণের জন্য তিস্তা নদীতে আরও একটি ব্যারাজ নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। জনগণের স্বার্থকে সামনে রেখে তিস্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘চীনের এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা রয়েছে এবং চীনের অর্থায়নে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা রয়েছে।’
টিসিবির কার্যক্রম প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘বর্তমানে টিসিবির মাধ্যমে পণ্য বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে সরকার কাজ করবে, যাতে মানুষের খাদ্যপণ্য পেতে টিসিবির লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন না হয়।’
অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগও খতিয়ে দেখা উচিত বলে মন্তব্য করেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উচিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার দুর্নীতির পাশাপাশি বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও তদন্ত করা।’
দেশের বিভিন্ন স্থানে আরবি হরফসংবলিত পতাকা টানানোর বিষয়েও সরকারের নজর রয়েছে বলে জানান ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে যাতে কোনো ভুল বার্তা না যায়, সে জন্য বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’