বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৭ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৫ মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ইরানে ফের হামলার হুমকি নেতানিয়াহুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকাতে প্রয়োজনে দেশটিতে তৃতীয় দফায় সামরিক হামলা চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) যে কোনো মুহূর্তে তেহরানের হামলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।-সূত্র: আনাদোলু, ইরান ইন্টারন্যাশনাল।

মঙ্গলবার ইসরাইলের চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করছে এবং সেই ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে তার সরকার।

দখলদার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর আগের দুই দফায় ইরানের হামলার মাধ্যমে (২০২৫ সালের জুনে ও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে) পরমাণু হামলার বড় ঝুঁকি থেকে নিজেদের মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে ইসরায়েল। প্রয়োজনে তৃতীয়বারও এমন অভিযান চালানো হবে।’

তিনি ক্ষমতায় থাকাকালীন তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে নেতানিয়াহু বলেন, ‘যতদিন আমি প্রধানমন্ত্রী থাকব, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।’

ইসরায়েল আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি শক্তিশালী এবং আমরা হুমকি প্রতিহত করেছি ও (আমাদের প্রতিপক্ষদের) যথেষ্ট দুর্বল করে দিয়েছি। আমাদের আরও কাজ করতে হবে। ইরানি শক্তির যা অবশিষ্ট আছে, তারও আমরা ব্যবস্থা নেব।’

অন্যদিকে হিজবুল্লাহর হুমকি পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে অবস্থান করবে বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন দখলদার প্রধানমন্ত্রী।

নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য এমন এক সময় এসেছে, যখন সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনে একটি সমঝোতা স্মারক কার্যকর হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া ওই সমঝোতা ১৮ জুন থেকে কার্যকর হয়। এতে ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষর করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যদিও ইসরায়েল তেহরানের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির বারবার বিরোধিতা করেছে, তবে নেতানিয়াহুর এমন কঠোর বার্তা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের জুন মাসে ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানের তিনটি পারমাণবিক কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। অত্যাধুনিক বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান ব্যবহার করে ইরানের ফোরদো, নাতানজ ও ইসফাহান পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা করে মার্কিন বাহিনী। তবে মার্কিন গোয়েন্দারা তাদের প্রাথমিক মূল্যায়নে জানিয়েছেন, হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মূল উপাদান ধ্বংস হয়নি। এ হামলা দেশটির পারমাণবিক কার্যক্রম শুধুমাত্র কয়েক মাস পিছিয়ে দিয়েছে।