নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে জাপানের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক সংসদীয় ভাইস মিনিস্টার শিমাদা তোমাকির নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে জাইকার অর্থায়নে চলমান বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর মধ্যে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, ঢাকার এমআরটি লাইনসমূহ এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের মতো বড় প্রকল্পগুলোর কাজের অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়।
বৈঠকে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর প্রেসিডেন্টসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের লক্ষ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব কাজ সম্পন্ন হবে।
এদিকে, বিদ্যমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বড় ধরনের ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে জাপান। বৈঠকে এ খাতে বাংলাদেশের জন্য জাপানের বরাদ্দকৃত ৩১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের আর্থিক সহায়তা বাড়িয়ে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার বিষয়ে জাপান সরকার ইতিবাচক সাড়া দেয়।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পূর্বে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ–জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দ্রুত কার্যকর ও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে বৈঠকে জাপানি প্রতিনিধি দল একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেয়। তারা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন, বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার সুরক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে জাপান সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে পাঁচটি আধুনিক প্যাট্রোল বোট প্রদান করা হবে।
বৈঠকে মানবিক কারণে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে এ আন্তর্জাতিক সংকট সমাধানে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে জাপানকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।
জাপানের পক্ষে প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি, জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ব্যুরোর পরিচালক হিরোসে আইকো, জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো এবং জাইকার বাংলাদেশ অফিসের প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো।