স্পোর্টস ডেস্ক : শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত কেউ হার মানতে রাজি ছিল না। একদিকে ইমাম আশুরের গোলে এগিয়ে থাকা মিসর, অন্যদিকে আত্মঘাতী গোলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সমতায় ফেরা অস্ট্রেলিয়া। আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ আর নাটকীয় মুহূর্তে ভরা ৯০ মিনিট শেষে কোনো দলই জয় ছিনিয়ে নিতে না পারায় শেষ ষোলোর লড়াই গড়িয়েছে অতিরিক্ত সময়ে। সেই সময়ের মধ্যেও ফল না আসায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
সেখানে সকারুদেরকে পেনাল্টি শুট-আউটে ২-৪ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলতে জায়গা করে নিয়েছে মোহাম্মদ সালাহার মিসর। ১৯৩৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলতে নেমেছিল মিসর, আর তাতেই বাজিমাত করল সালাহর দল।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে নির্ধারিত সময় শেষে অস্ট্রেলিয়া ও মিসরের স্কোর ১-১। ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করতে দুই দলকে খেলতে হচ্ছে আরও ৩০ মিনিট।প্রথমার্ধে ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে ১৩তম মিনিটে। অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণ বল পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে না পারলে সুযোগ কাজে লাগিয়ে জালে বল পাঠান ইমাম আশুর। সেই গোলে বিরতিতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল মিসর।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করার দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন ওমর মারমোশ। গোলরক্ষকের সামনে একা পেয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন তিনি। পরে সেই সুযোগ হাতছাড়া করাই মিসরের জন্য বড় আক্ষেপ হয়ে দাঁড়ায়। ৫৫ তম মিনিটে ভাগ্যও অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে কথা বলে। একটি ফ্রি-কিক থেকে বক্সে ভেসে আসা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজের জালেই হেড করে বসেন মিসরের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি। সেই আত্মঘাতী গোলে ১-১ সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া।
হানির এই গোল শুধু ম্যাচের সমতাই ফেরায়নি, বিশ্বকাপের ইতিহাসেও নতুন রেকর্ড গড়েছে। এটি ছিল চলতি আসরের ১৩তম আত্মঘাতী গোল, যা এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ। পাশাপাশি এক আসরে দুটি আত্মঘাতী গোল করা ইতিহাসের দ্বিতীয় ফুটবলারও হয়েছেন হানি।
সমতায় ফেরার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করে মিসর। মোহাম্মদ সালাহ, ইমাম আশুর ও ওমর মারমোশ একের পর এক আক্রমণ চালালেও অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণ ভাঙতে পারেননি। ৬৩তম মিনিটে সালাহ বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। ম্যাচের গতি বদলাতে দুই দলের কোচই একাধিক পরিবর্তন আনেন। নতুন খেলোয়াড়দের নিয়ে আক্রমণের ধার বাড়ানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল আসেনি।
শেষ ১০ মিনিটে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। ৮২তম মিনিটে কর্নার থেকে হ্যারি সাউত্তারের হেড দারুণভাবে আটকে দেন মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শুবির। এরপর ৮৬তম মিনিটে হাইসেম হাসানের বিপজ্জনক ক্রস মুষ্টিবদ্ধ হাতে সরিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ।
যোগ করা সময়ে জয়ের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল মিসর। ৯০+৪ মিনিটে রামি রাবিয়ার শক্তিশালী হেড অসাধারণ দক্ষতায় কর্নারের বিনিময়ে ফিরিয়ে দেন প্যাট্রিক বিচ। এরপর ৯০+৬ মিনিটে সালাহর নিখুঁত পাস থেকে বদলি খেলোয়াড় হাইসেম হাসানের শট শেষ মুহূর্তে হ্যারি সাউত্তার ঠেকিয়ে দিলে অস্ট্রেলিয়া নিশ্চিত গোল হজমের হাত থেকে রক্ষা পায়।
শেষ পর্যন্ত রেফারির বাঁশি বাজতেই ১-১ সমতায় শেষ হয় নির্ধারিত সময়ের খেলা। পরে ডালাসে ১২০ মিনিটের হাড়ভাঙা খাটুনির লড়াই শেষে রেফারি শেষ বাঁশি বাজালেন। দুই দলের এই তীব্র ও শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ের ভাগ্য এখন নির্ধারিত হয় রোমাঞ্চকর পেনাল্টি শুট-আউটে। যেখানে সকারুদেরকে পেনাল্টি শুট-আউটে ২-৪ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলতে জায়গা করে নিয়েছে সালাহার মিসর।