মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৩ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২১ মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

‘সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থানীয় নির্বাচনের তফশিল দেবে ইসি’

বাসস : নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার আগে সরকারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সীমানা নির্ধারণ, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সরকারের এখতিয়ারভুক্ত হওয়ায় বাস্তবতা ও আইনগত প্রয়োজনেই সরকারের সঙ্গে লিখিত ও অলিখিত সমন্বয়ের ভিত্তিতে নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে কমিশন অক্টোবরকে সামনে রেখে নির্বাচনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে।

সোমবার (৬ জুলাই) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি) আয়োজিত ফল উৎসবে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা অক্টোবরকে সামনে রেখে কাজ করছি। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, নির্বাচন অক্টোবরে হবেই-এ ধরনের নিশ্চয়তা আমরা দিচ্ছি না। কারণ অনেক বিষয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর নির্ভর করছে। সরকারের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া এখনই নির্দিষ্ট সময় ঘোষণা করা সঙ্গত হবে না, যৌক্তিকও হবে না।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আইনি কাঠামোর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। সংবিধানে জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনের কথা উল্লেখ থাকায় সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের ক্ষমতা সরাসরি নির্বাচন কমিশনের হাতে রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে কতটি ওয়ার্ড বা কাউন্সিল থাকবে, কীভাবে সীমানা পুনঃনির্ধারণ হবে-এসব বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তই কার্যকর হয়।

তিনি বলেন, এ কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতিতে নির্বাচন কমিশনকে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে এগোতে হবে। কমিশন খুব শিগগিরই সরকারকে চিঠি দিয়ে যেসব এলাকায় সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির অনুরোধ জানাবে।

আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন আগে হওয়াই বাস্তব ও আইনগত দিক থেকে বেশি যৌক্তিক। তবে এর অর্থ এই নয় যে সিটি করপোরেশন নির্বাচন হবে না। বর্তমানে প্রশাসকের মাধ্যমে সিটি করপোরেশন পরিচালিত হলেও কমিশনের প্রস্তুতির বাইরে সেটি নেই।

তিনি বলেন, সব নির্বাচন একসঙ্গে করা সম্ভব নয়। কোন নির্বাচন আগে হলে মানুষ বেশি উপকৃত হবে, কোথায় জনপ্রতিনিধির অভাবে মানুষের দুর্ভোগ বেশি-এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হলেও নির্বাচন আয়োজনের সঙ্গে কয়েক লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থা জড়িত থাকে। ফলে বাস্তব প্রস্তুতির জন্য সময় প্রয়োজন।

তিনি বলেন, যদি অক্টোবরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী অন্তত ৪৫ দিন আগে তফশিল ঘোষণা করতে হবে এবং কমিশন সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আরেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে কমিশন ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রাক-প্রস্তুতি শুরু করেছে।

তিনি জানান, নির্বাচন আচরণবিধির খসড়া কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের মতামত পাওয়ার পর সেগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের কাজ চলছে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার বিভাগের সঙ্গে সীমানা নির্ধারণের বিষয়েও সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত এ কার্যক্রম শেষ করা যায়।

তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহ থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রস্তুতির অগ্রগতি সম্পর্কে ধারাবাহিকভাবে গণমাধ্যমকে অবহিত করা হবে।

সানাউল্লাহ বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনও সুন্দর, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের সহযোগিতা আমাদের প্রয়োজন হবে।

আরএফইডি সভাপতি কাজী ইমাদ উদ্দিন জেবেলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ইকরাম-উদ দৌলার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির (বাছির জামাল) বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদসহ নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আরএফইডির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।