নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে অনুসন্ধানমূলক আলোচনা শুরুর প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। একই সঙ্গে এলডিসি-পরবর্তী সময়ে বাণিজ্যিক সুবিধা অব্যাহত রাখতে অশুল্ক বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর, ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা, বিদ্যমান অশুল্ক বাধা অপসারণ এবং এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ-ইইউ এফটিএ নিয়ে সম্ভাব্য অগ্রগতির বিষয়ও গুরুত্ব পায়।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ইইউর উত্থাপিত বিভিন্ন উদ্বেগ দূর করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং এ বিষয়ে ইতিমধ্যে কিছু অগ্রগতিও হয়েছে।
রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পাশাপাশি এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে, যাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ে, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা কমে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রতি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা আরো শক্তিশালী হয়।
তিনি বলেন, ইইউর সব উদ্বেগ ও প্রত্যাশাকে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে বাংলাদেশ যে তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সক্ষম, সে বার্তা পৌঁছে দিতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, জ্বালানি সংকটের সমাধান, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষ বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার মাধ্যমে অর্থনীতির ভিত্তি আরো শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।
বৈঠকে ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশ-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অনুসন্ধানমূলক আলোচনা শুরুর জন্য ইইউ প্রস্তুত এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশকে ইতিমধ্যে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, অশুল্ক বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর করা, ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন এবং এলডিসি-পরবর্তী সময়ে বাণিজ্যিক সুবিধা নির্বিঘ্ন রাখতে দ্রুত ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। সময়মতো প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ-ইইউ এফটিএ আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
বৈঠকে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।