নিজস্ব প্রতিবেদক : আইন অনুযায়ী সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রচলিত ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, যারা তার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছেন, তাদের সে অধিকার আছে। আমরা গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে কী প্রত্যাশা করি? রাজনৈতিকভাবে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা থাকবে, প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা থাকবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে, এনসিপি এবং অন্যরা তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ উত্থাপন করছে। সেটা করতে পারে। কিন্তু আমরা আমলে নেওয়ার মতো কোনো বক্তব্য সেখানে পাইনি।
রোববার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার প্রদান শেষে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি তার দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে, স্বৈরাচারের শেষ দিকে, ইন্টারিম গভর্নমেন্টের পুরোটা এবং বর্তমান রাজনৈতিক সরকারের প্রায় পাঁচ-ছয় মাসের সময়ে তিনি সাংবিধানিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ সময় তিনি বিধিবহির্ভূত কোনো কাজ করেননি। আমরা মহামান্য রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা পেয়েছি।
তিনি বলেন, আইন মোতাবেক তিনি প্রিভিলেজড হিসেবে আছেন। এ অবস্থায় ফৌজদারি অপরাধ বা অন্য কোনো বিষয়ে আদালতে মামলা করা যায় না। এর বাইরে কোনো সময়ে যদি কেউ কোনো বক্তব্য দিয়ে থাকে, সেটা তাদের স্বাধীনতা আছে বলার। তবে আমরা আমলে নেওয়ার মতো কোনো বিষয় এখানে দেখিনি।
বিদেশে গিয়ে তিনি ভারতে আশ্রয় নেওয়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমরা পত্রিকায় দেখেছি। কোনো পত্রিকা এ ধরনের একটি খবর প্রকাশ করলে, তার কাছে কী তথ্য-প্রমাণ আছে, তা তাকে জিজ্ঞেস করতে হবে। আমাদের কাছে এ ধরনের কোনো তথ্য নেই।
তিনি বলেন, কথা বলার জন্য তো লন্ডন যেতে হয় না। ইন্টারনেটের দুনিয়ায় লন্ডন গিয়ে কারও সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি আমাদের কাছে অলীক মনে হয়। কথা বলতে চাইলে তো এখান থেকেও বলা যায়।
তার নামে মামলা, অভিযোগ বা গ্রেপ্তারের দাবির বিষয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে, দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে তার বিরুদ্ধে কেউ কোনো অভিযোগ দিয়েছিল কি না—এ প্রশ্নও রয়েছে।
পরক্ষণেই তিনি বলেন, যদি অভিযোগ দিয়ে থাকে বা কোনো কিছু রেকর্ড করে থাকে, সেটা তখনকার বিষয়। সেটি বিধি-বিধান অনুসারে চলবে, আইনানুযায়ী চলবে।
তিনি আরও বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি আইন অনুযায়ী যে সুযোগ পাওয়ার অধিকারী, তা অবশ্যই পাবেন। তার সুরক্ষার জন্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) সুবিধা পাবেন। এ বিষয়ে ছয় মাসের যে বিধান রয়েছে, তা বহাল থাকবে। এছাড়া পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার পক্ষ থেকেও তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইনানুযায়ী তিনি যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকারী, সবই পাবেন বলে জানান তিনি।