নিজস্ব প্রতিবেদক : সমাজের প্রতিটি শিশুর বিকাশে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং রাষ্ট্রকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, জন্মগত বা অন্য কোনো কারণে কোনো শিশুর জীবনে সীমাবদ্ধতা থাকলেও তাকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব পুরো সমাজের।
সরকার এমন বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে কেউ পিছিয়ে থাকবে না।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) আয়োজিত ‘পায়ের ছাপ’ প্রামাণ্য তথ্যচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, একজন শিশুকে সঠিকভাবে বড় করে তুলতে পুরো সমাজের সহযোগিতা প্রয়োজন। শুধু বাবা-মা নয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রতিবেশী ও রাষ্ট্র—সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে।
বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে কোনো শিশু তার সীমাবদ্ধতার কারণে পিছিয়ে থাকবে না।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখতে হবে।
ডাক্তার, বিজ্ঞানী, মহাকাশচারী, প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রপতি—যা-ই হতে চাও না কেন, কঠোর পরিশ্রম ও মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করলে তা সম্ভব। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমেও অংশ নিতে হবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘পায়ের ছাপ’ প্রামাণ্যচিত্রে উঠে আসা আয়শার সংগ্রামের গল্প মানবিক শক্তির এক অনন্য উদাহরণ। তিনি আয়েশার বাবা-মায়ের ত্যাগ ও ধৈর্যের প্রশংসা করে বলেন, নানা প্রলোভন উপেক্ষা করে তারা মেয়েকে শিক্ষার পথেই এগিয়ে নিয়েছেন, যা অন্যদের জন্য অনুকরণীয়।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের সবচেয়ে বড় নিয়োগদাতা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথমে তিনি আয়েশার বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর আহ্বান জানাতে চেয়েছিলেন।
তবে অনুষ্ঠানে জানতে পারেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যেই আয়েশাকে গাইবান্ধা বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্লাস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ দিয়েছেন।
এ ঘোষণায় উপস্থিত সবাই করতালির মাধ্যমে আনন্দ প্রকাশ করেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটাই প্রমাণ করে সরকার মেধাবীদের মূল্যায়নে আন্তরিক।
তিনি আরও বলেন, একসময় বিশ্বের অর্থনীতিতে বাংলার অবদান ছিল ১০ শতাংশেরও বেশি, যার প্রধান ভিত্তি ছিল বস্ত্রশিল্প। বর্তমানে তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এ খাতকে আরও এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা, আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব কিংবা গবেষণার মাধ্যমে বস্ত্রখাতকে আরও শক্তিশালী করতে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন হলে তা দিতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি ‘পায়ের ছাপ’ প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মুকিত মজুমদার বাবু এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন।
আলোচনা সভা শেষে ‘পায়ের ছাপ’ প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণে অবদানের জন্য চ্যানেল আইয়ের সিনিয়র ক্যামেরাম্যান মনির হোসেন এবং সিনিয়র ক্যামেরাম্যান ডকুমেন্টারি নির্মাতা হাবিবুর রহমানকে পৃথক ক্যাটাগরিতে সম্মাননা প্রদান করা হয়।