শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৬ সফর, ১৪৪৮ হিজরি

আগস্টের শেষ সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য

মুক্তবাণী রিপোর্ট: প্রায় আড়াই বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে দুই দেশ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করে আগামী আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, শ্রমিকবান্ধব এবং কম ব্যয়বহুল অভিবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে যৌথভাবে কাজ করবে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিনের নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ২৮ থেকে ৩০ জুলাই মালয়েশিয়া সফর করে। সফরকালে দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি রামানন রামাকৃষ্ণন, মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক শেষে এ অগ্রগতির কথা জানানো হয়।

বাংলাদেশ হাইকমিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বিষয়টি তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে মাহ্‌দী আমিন বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক এখন বহুমাত্রিক কৌশলগত অংশীদারত্বে রূপ নিয়েছে।

শ্রম অভিবাসনের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, জ্বালানি সহযোগিতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি হয় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে মালয়েশিয়ায় প্রথম বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানি শুরু হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর মালয়েশিয়াকে তার প্রথম বিদেশ সফরের অন্যতম গন্তব্য হিসেবে নির্বাচন করেন, যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর ও ফলপ্রসূ করার ক্ষেত্রে সরকারের অগ্রাধিকারকে প্রতিফলিত করে।

উপদেষ্টা জানান, মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীরা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তাদের শ্রম মালয়েশিয়ার শিল্প ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এবং তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি।

তিনি বলেন, দুই দেশ নতুন, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোর আওতায় শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়ার আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের আওতায় নিয়োগপ্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও প্রতিযোগিতামূলক করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মালয়েশিয়া সরকারের কাছে ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা পাঠানো হয়েছিল। বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের আওতায় মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিজস্ব যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্তভাবে কতটি এজেন্সি অনুমোদন পাবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

মাহ্‌দী আমিন আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, দুর্নীতি, অনিয়ম, সিন্ডিকেটভিত্তিক কার্যক্রম বা পূর্ববর্তী সরকারের সময় সংঘটিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে নতুন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সরকার সমর্থন করবে না। সরকারের লক্ষ্য একটি উন্মুক্ত, প্রতিযোগিতামূলক, জবাবদিহিমূলক ও সিন্ডিকেটমুক্ত নিয়োগব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যাতে সাধারণ কর্মীরা কম খরচে ও হয়রানিমুক্তভাবে মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পান।

তিনি জানান, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দুই দেশের হাইকমিশন এবং কারিগরি পর্যায়ের কর্মকর্তারা অবশিষ্ট প্রক্রিয়াগত বিষয়গুলো চূড়ান্ত করবেন। অভিবাসন ব্যয়, নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং নতুন কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হবে।

উপদেষ্টা মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানে আগ্রহী বাংলাদেশিদের দালাল ও অসাধু চক্রের প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হয়ে শুধু সরকার অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী, বাংলাদেশ হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।