আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে মেরিন কর্পসের একটি এফ-৩৫বি স্টেলথ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার ঠিক আগে পাইলট জরুরি ইজেকশন (বিমান থেকে বেরিয়ে আসা) করতে সক্ষম হন। ফলে তিনি আহত হলেও তার আঘাত প্রাণঘাতী নয় বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। -খবর সামা টিভির।
মেরিন কর্পস জানায়, বিমানটি সান ডিয়েগোর কাছে মেরিন কর্পস এয়ার স্টেশন মিরামারের আশপাশে বিধ্বস্ত হওয়ার পর পাইলটকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তার শারীরিক পরীক্ষা ও চিকিৎসা চলছে। দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
ঘটনাস্থলের ফুটেজে দেখা যায়, একটি খোলা মাঠে বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সামরিক সদস্য ও দমকলকর্মীরা কাজ করছেন। আগুন নেভানোর রাসায়নিক পদার্থে দুর্ঘটনাস্থলের কিছু অংশ ঢেকে যায়।
সান ডিয়েগো ফায়ার ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ক্যান্ডেস হ্যাডলি জানান, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর আশপাশের ঝোপঝাড়েও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তবে দুর্ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তিনি মেরিন কর্পস এয়ার স্টেশন মিরামারের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
এক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, দুটি সামরিক বিমান রানওয়ের দিকে এগিয়ে আসছিল। এর মধ্যে একটি বিমান নিচু উচ্চতায় হঠাৎ অনেক ধীরগতিতে চলতে শুরু করে। মাটি থেকে প্রায় ১০০ ফুট ওপরে থাকা অবস্থায় পাইলট ইজেক্ট করেন এবং কয়েক মুহূর্ত পর প্যারাশুট খুলে যায়। এরপরই বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ে।
বিধ্বস্ত হওয়া এফ-৩৫বি হলো লকহিড মার্টিন নির্মিত এফ-৩৫ লাইটনিং–২ যুদ্ধবিমানের এমন একটি সংস্করণ, যা স্বল্প দূরত্বে উড্ডয়ন এবং উল্লম্বভাবে অবতরণ করতে সক্ষম। এটি মূলত উভচর যুদ্ধজাহাজ ও সীমিত সুবিধাসম্পন্ন বিমানঘাঁটি থেকে পরিচালনার জন্য মার্কিন মেরিন কর্পস ব্যবহার করে।
মেরিন কর্পস জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত চলছে।