শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৭ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৭ সফর, ১৪৪৮ হিজরি

একটি সেতু পাল্টে দিতে পারে ছয় গ্রামের জীবনযাত্রা

এইচ এম প্রফুল্ল, খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার ধলিয়া খালের ওপারেই মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুর ও বড়ঝালাসহ ছয় গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের বসবাস| ওই এলাকায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কয়েকটি মসজিদ ও একটি বৌদ্ধ মন্দির ছাড়াও রয়েছে বহু কৃষি জমি এবং ফলদ-বনজ বাগান| কিন্তু স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও একটি সেতু পায়নি মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ছয় গ্রামের মানুষ|একটি সেতুর অভাবে সেখানকার হাজারো অধিবাসীর ম্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে|
সেখানকার অধিবাসীদের চলাচলকে সহজতর করতে বিভিন্ন সময়ে ধলিয়া খালের উপর কাঠের ঝুলন্ত সেতু তৈরি করা হলেও মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির শেষ হয়নি|
একটি সেতুর অভাবে তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য মাটিরাঙ্গা বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্য যথা সময়ে আনতে না পারার কারণে খালের ওপাড়েই নষ্ট হয়ে যায়| তাছাড়া অসুস্থ ও গর্ভবতীদের চিকিৎসা সেবা এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে দুর্ভোগ পোহাতে হয়| তাছাড়া সময়তো রোগীকে হসপিটালের নিতে না পারায় খালের নিচেই মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে|
সর্বশেষ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে কাঠের তৈরির পাটাতন দিয়ে নির্মিত একটি নড়েবড়ে ঝুলন্ত সেতু রয়েছে| এ সেতুটিই এপারের সঙ্গে ওপারের মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম| বর্ষা এলেই খালের ওপারের বাসিন্দারা মাটিরাঙ্গার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন|
এই খালের উপরে সেতু নির্মাণ প্রতিশ্রুতিতেই আটকে আছে দেড় যুগের বেশি| ফলে দুর্ভোগ কমেনি এই এলাকার মানুষের| বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কয়েক বছর আগে নিজেদের প্রচেষ্টায় নিজেরাই কাঠের ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ করে মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের ছয় গ্রামের মানুষ| প্রবল বর্ষণে সেই কাঠের সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ায় ফের দুর্ভোগে পড়েন তারা| এভাবে বছরের পর বছর ঝুলন্ত সেতুই যেন তাদের প্রাপ্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে|
মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আবদিল হাই বলেন, বছর জুড়ে ধলিয়া খালে পানি থাকে| ফলে ভোগান্তি মানুষের পিছু ছাড়ে না| জনদুর্ভোগ লাঘবে ধলিয়া খালের ওপর পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন নির্বাচন আসলেই সবাই প্রতিশ্রুতি দেন| কিন্তু নির্বাচন শেষে আর কেউ খবর রাখেনা|
স্থানীয় অধিবাসী বিমল চাকমা বলেন, আমার ৪৬ বছর বয়সের কষ্ট আর গত ১৭ বছরের প্রতিশ্রুতি মিলে আমাদের দুর্ভোগ বহুগুন হয়েছে| আমরা আর প্রতিশ্রুতি চাইনা| আমরা মাননীয় সংসদ সদস্যের কাছে একটি সেতু দাবী করছি|
শিক্ষক মো. আব্দুল মালেক বলেন, একটি সেতুর অভাবে ধলিয়া খালের ওপারের ছয় গ্রামের শিক্ষার মান কমছে| বর্ষাকালে ওপারের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যেতে পারেনা| সেখানকার সাধারন মানুষ স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত হচ্ছে| তিনি জনদুর্ভোগ লাগবে ধলিয়া খালের উপর সেতু নির্মানের দাবী জানান|
মাটিরাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি মমো. শাহজালাল কাজল জনদুর্ভোগ লাগবে দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণ করার দাবি জানিয়ে বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের জনপ্রতিনিধিরা ১৭ বছর ধলিয়া খালের ওপারে মানুষকে ব্রিজ নির্মানের স্বপ্ন দেখিয়ে তাদের সাথে প্রতারনার করেছে| তানি বলেন, বিষয়টি সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুইয়া মহোদয়কে জানানো হয়েছে| ছয় গ্রামের মানুষের উৎপাদিত কৃষি পণ্য বাজারজাতকরনসহ যাতায়াত ব্যবস্থার সুবাদে ব্রিজটি নির্মাণ করে জরুরি হয়ে পড়ছে|
মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে তাহমিনা মিতু বলেন, বিষয়টি আমরা অবগত আছি| সম্প্রতি আমি নিজেও এলাকাটি পরিদর্শন করেছি| ধলিয়া খালের ওপারের ছয় গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে সেতু নির্মানের উদ্যোগ নেয়া হবে|
আর প্রতিশ্রুতি নয়, এবার সেতুর বাস্তবায়ন চাই এলাকাবাসী|