মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২০ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২০ সফর, ১৪৪৮ হিজরি

অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান শামা ওবায়েদের

নিজস্ব প্রতিবেদক : নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি অভিবাসী কর্মীদের অধিকার ও কল্যাণ সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

ঢাকায় আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) অপারেশনস বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল (ডিডিজি) উগোচি ড্যানিয়েলসের সঙ্গে এক বৈঠকে একথা বলেন তিনি।

সোমবার (৩ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

বৈঠকে আইওএম ডিডিজির সঙ্গে ছিলেন সংস্থাটির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক ইওরি কাতো এবং বিশেষ উপদেষ্টা প্রিয়া মারওয়াহ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

শামা ওবায়েদ নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অংশীদার হিসেবে আইওএমের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, উন্নয়ন ও মানবিক অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে আইওএমের সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি জানান, গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর মাইগ্রেশনের (জিসিএম) চ্যাম্পিয়ন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে জিসিএম ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান (ন্যাপ) কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত ও কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণ, অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ, নৈতিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের পরিবর্তিত চাহিদা অনুযায়ী সম্ভাব্য অভিবাসীদের দক্ষতা উন্নয়নে আইওএমের সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তিকে বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করতে প্রতিভা স্থানান্তর (ট্যালেন্ট মোবিলিটি) এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ গড়ে তোলা প্রয়োজন। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, কেয়ারগিভিং ও কৃষি খাতে দক্ষ কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরিতে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

শামা ওবায়েদ অভিবাসী কর্মীদের, বিশেষ করে নারী কর্মীদের অধিকার ও কল্যাণ সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।

এ সময় তিনি সংকটপূর্ণ দেশগুলো থেকে আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের উদ্ধার ও দেশে ফিরিয়ে আনতে আইওএমের সহযোগিতার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি নিরাপদ প্রত্যাবর্তন, টেকসই পুনর্বাসন, জলবায়ুজনিত অভিবাসন মোকাবিলা এবং মানবপাচার ও অভিবাসী পাচার প্রতিরোধে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রী জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (এফডিএমএন) জন্য আইওএমের মানবিক সহায়তার প্রশংসা করে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানান।

বৈঠকে আইওএমের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল উগোচি ড্যানিয়েলস বাংলাদেশ সরকারের টেকসই অভিবাসন ব্যবস্থাপনার উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বৈশ্বিক পর্যায়ে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন প্রচারে বাংলাদেশের নেতৃত্ব ও অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন।

উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-আইওএম অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার পাশাপাশি অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষা, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ এবং বাংলাদেশের অভিবাসন ও মানবিক অগ্রাধিকারে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।